খাদের কিনারে কোহলিরা

স্পোর্টস ডেস্ক।।
দুই ম্যাচে ১৮ উইকেট হারিয়েছে ভারত। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভারত এখন খাদের কিনারায়। অঙ্কের সমীকরণ মেলাচ্ছেন ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকরা। আর দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো তুলোধুনো করছে দুই ম্যাচের ব্যর্থতার পান্ডুলিপি।

পাকিস্তানের কাছে হারের ধাক্কা ভুলে রবিবার (৩১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন কোটি কোটি ভারতীয় সমর্থক। প্রত্যাশা ছিল, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দিওয়ালির রোশনাই জ্বলবে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মাদের খেলায়। কিন্তু দুবাইয়ে যা ঘটল, তা সত্যিই অকল্পনীয়। প্রত্যাশার বুর্জ খলিফা ভেঙে পড়লো হুড়মুড়িয়ে। মনে হচ্ছিল, পেট্রোলের রেকর্ড দর হয়তো টপকাতে পারবে না ভারত।

সাম্প্রতিককালে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের এমন দৈন্য দশা দেখা যায়নি। যেন এক খুরে সবার মাথা কামানো। কে কার ঘাড়ে দোষ চাপাবে? ব্যর্থতার এই দায় সামগ্রিক। শুধু ক্রিকেটার কিংবা সাপোর্ট স্টাফ নয়, সমান দোষে দুষ্ট বিসিসিআই কর্তারাও। আইপিএলের দল নিলাম করে কোটি কোটি টাকা কোষাগারে ভরাই এখন যে ভারতীয় ক্রিকেটের মূল লক্ষ্য। পিতার অন্ধ স্নেহে ছেলের উচ্ছন্যে যাওয়ার মতোই অবস্থা এখন এই দলের। সার্বিক সাফল্য কোথায়! দু’চারটে ট্রফি, তাও আবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। আইসিসির ট্রফি কবে জিতেছিল ভারত, মনে করাই কঠিন। ২০১১ সালের পর ভারত বিশ্বকাপের মঞ্চে সাড়া জাগিয়ে প্রত্যাশিত ফল পায়নি ঠিকই, কিন্তু শেষ চারে পৌঁছেছিল। বড় কোনো অঘটন না ঘটলে এবার তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হবে।

মনের কোনে বারবার ভেসে উঠছিল ১৪ বছর আগের কলঙ্কিত ইতিহাস। ২০০৭ সাল, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে বাংলাদেশের মতো দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে হেরে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারত। মরুদেশের ব্যর্থতা নিয়েও পর্যালোচনা প্রয়োজন। দরকার ময়নাতদন্ত। চাওয়া উচিত ম্যানেজার, কোচের রিপোর্ট। ক্যাপ্টেন হিসেবে বিরাট কোহলি ব্যর্থ। সেটা আর নতুন করে বলার প্রয়োজন নেই। তিনি হয়তো দেওয়াল লিখন পড়তে পেরেছিলেন। তাই সময় থাকতেই ঘোষণা করে দিয়েছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আর এই ফরম্যাটে দেশকে নেতৃত্ব দেবেন না। তাতেও যেন কোহলির নিস্তার নেই। এবার তাকে পাকাপাকিভাবে অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরানোর দাবি উঠবে।

কিন্তু যাদের হাতে আগামীর দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবছেন বোর্ড কর্তারা, তারা পার পাবেন কেন? এত তারকা নিয়ে যদি এই ফল হয়, কোটি কোটি দেশাবাসীকে চোখের জল ফেলতে হয়, তাহলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। কিন্তু বোর্ড সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি কি সেই পথে হাঁটার সাহস দেখাবেন? তার তো আবার ‘হাত-পা’ বাঁধা। ভারতীয় ক্রিকেট বরাবরই রাজনীতির শিকার। যেখানে ক্রিকেট গৌন, প্রাধান্য পেয়েছে ব্যক্তি স্বার্থ।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টসে হারার পর কোহলির মুখ দেখে মনে হচ্ছিল তিনি প্রবল চাপে। জিততে না পারলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যেতে হবে। সেই আতঙ্কই চেপে বসেছিল ভারতীয় শিবিরে। তার থেকে আর মুক্তি মেলেনি।