দুই স্কুলবন্ধুকে ‘শত্রু’ বানালো বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক।।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে আজ একে ওপরের বিপক্ষে লড়বেন দুই বাল্য বন্ধু! ব্যাপারটা শুনতে অবাক করার মতো লাগলেও, পুরোটাই সত্য। অসি অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস এবং কিউই অলরাউন্ডার ড্যারিল মিচেল বাল্য বন্ধু। তারা একই স্কুলে পড়েছেন।

২০০৯ সালের মার্চে ড্যারিল মিচেল, মার্কাস স্টয়নিস ও জাস্টিন ল্যাঙ্গার স্কারবোরো দলের সতীর্থ ছিলেন। ওয়াকার ড্রেসিংরুমে বসে একসঙ্গেই উদযাপন করেছেন প্রথম শ্রেণির প্রিমিয়ারশিপ। কিন্তু এবার স্কুলসঙ্গীকে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় এবং ল্যাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ার কোচ হিসেবে দেখছেন মিচেল।

মিচেল-স্টয়নিস যেমন নিজ নিজে দলের হয়ে সেমিফাইনালে দুর্দান্ত খেলেছেন, ঠিক তেমনই ২০০৯ সালে উভয়ই স্কারবোরোর নায়ক। সেমিফাইনালে স্টয়নিস খেলেছেন ১৮৯ রানের ইনিংস। আর ফাইনালে অসাধারণ বোলিং দিয়ে মাত্র ২৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৪ উইকেট মিচেল।

সেদিন মিচেল-স্টয়নিসদের অধিনায়ক ছিলেন ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ওপেনার ক্লিন্ট হেরন। ২৬৫ রান তাড়া করতে নেমে বেসওয়াটার-মর্লে ২ উইকেটে ১৬৯ রান করে। তখন হেরন মিচেলকে বোলিং এ আনেন।

ক্রিকইনফোকে হেরন বলেন, ‘মিচেল খেলাকে বড় করে দিয়েছেন। আমাদের কাছে স্পষ্টতই সেই সময়ে তাদের রানে একটি বাধা তৈরি কথা দরকার ছিলো। আমি ল্যাঙ্গারের সঙ্গে তখন এটি নিয়ে কিছুটা কথা বলেছিলাম।’

‘তখন আমি মিচেলের কাছে বলটি ছুড়ে দিয়েছিলাম, এই ভেবে যে সে হয়তো সেই লোকদের মধ্যে একজন হতে পারে যে কিছু ঘটাবে। সে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে একটি উইকেট পেয়ে যায়। আমার মনে হয় এটি তার স্পেলের প্রথম বল ছিলো। সেদিনের ম্যাচ সে বোলিং করেই ঘুরিয়ে দিয়েছিলো।’

স্কারবোরোর হয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার তিন বছর আগে নিউজিল্যান্ড থেকে পার্থে চলে গিয়েছিলেন মিচেল। যখন তার বাবা জন মিচেল সুপার ১৪ রাগবি প্রতিযোগিতায় ওয়েস্টার্ন ফোর্সের প্রথম কোচ হিসেবে নিযুক্ত হন।

মিচেল হেল স্কুলে ভর্তি হন, যেখানে তিনি স্টয়নিসের সঙ্গে পরিচিত হন। তার থেকে দুই বছরের বড় স্টয়নিস এবং অস্ট্রেলিয়ান রাগবি ইউনিয়নের খেলোয়াড় ডেন হেইলেট-পেটির সঙ্গে স্কুলের পাশে খেলতেন। হেরন এবং ল্যাঙ্গারের অধীনে স্কারবোরোতে তারা প্রায় পাঁচ বছর ধরে একসাথে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

ল্যাঙ্গারের দীর্ঘ দিনের ব্যাটিং মেন্টর নিল ‘নডি’ হোল্ডারের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে বা পার্থের রেভল্যুশন স্পোর্টস ইনডোর সেন্টারে নেট সেশন করেছেন তারা। জিমও একসঙ্গেই করেন। তারা সেরা ক্রিকেটার হয়ে উঠতে পারে, তা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন হোল্ডার।

বিশ্বকাপের আগে মিচেল ক্রিকইনফোকে বলেছেন, ‘হোল্ডার এবং ল্যাঙ্গার তার ক্যারিয়ারে বড় প্রভাব ফেলেছেন। নিল ‘নডি’ হোল্ডারের সাথে শুধু ব্যাটিং নয়, একজন পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করে শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবেই নয় বরং একজন খেলোয়াড় হিসেবেও আমি এগিয়ে গেছি।’

‘অবশ্যই আমি খুব ভাগ্যবান ছিলাম কারণ স্কারবোরোতে জাস্টিন ল্যাঙ্গারের সঙ্গে আমার স্কুল থেকে প্রথম বছরে ক্লাব ক্রিকেট খেলাটা সত্যিই দুর্দান্ত ছিল। আমার মনে আছে ছোটবেলায় তাকে দেখে বড় হয়েছি এবং তার সাথে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করা ছিল অসাধারণ।’