মুলাদীতে গবাদিপশুর খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে খামারীরা

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় গরু ও ছাগলের খাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারীরা। খৈল, ভুসি, ক্যাটল, ভুট্টাসহ বিভিন্ন মালের দাম বাড়ায় খামারীরা দিশেহারা হয়েছেন। দুই মাসের ব্যবধানে গরুর খাদ্যের দাম ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা। দাম না কমলে গরু বিক্রি করে দিতে হবে খামারীদের। এছাড়া দাম বৃদ্ধির সঙ্গে গবাদিপশুর ওষুধ ও চিকিৎসা খরচ বেড়ে যাওয়ায় খামার টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন খামারীরা।

জানা গেছে, উপজেলায় ব্যক্তিমালিকানায় ছোট বড় মিলিয়ে ২৩৫টি গরুর খামার রয়েছে। এদের মধ্যে ২-৫ গরুর ২১৮টি, ৬-৯ গরুর ১৫টি এবং ১০-২০ গরুর ২টি খামার রয়েছে। এছাড়া উপজেলায় ১৮৩টি ছাগলের খামার আছে। এসব খামারে খড়ের পাশাপাশি প্রতিদিন ভুসি, ভুট্টা, খৈল, ক্যাটলসহ বিভিন্ন খাদ্যের প্রয়োজন হয়। দুই তিন মাসের ব্যবধানে মুলাদী উপজেলায় গরু ছাগলের খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কার্তিক অগ্রহায়ন মাসে ঘাস, খড় এবং গোচরন ভুমির স্বল্পতার পশু খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। আর এই সময়েই খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারীরা গরু-ছাগলের খাদ্য সংকটে পড়েন।

কাজিরচর ইউনিয়নের ডিক্রীরচর গ্রামের সোহেল হোসেন জানান, তাঁর খামারে ২০টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন খড়ের সাথে ১ মনের চেয়েও বেশী খাদ্যের প্রয়োজন হয়। মুলাদী ইউনিয়নের ভাঙ্গামোনা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেন খান জানান, তাঁর খামারে ৩০টি গরু রয়েছে। প্রতিদিন খড়ের সাথে দুই মনের চেয়েও বেশী খাদ্যের প্রয়োজন হয়। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিবস্তা খৈল ২ হাজার ৭শত টাকা, ভুসি ১১শত টাকা, ক্যাটল ৭শত টাকা, ভুট্টা ৮শত টাকায় কেনা যেত। বর্তমানে প্রতিবস্তা খৈল সাড়ে ৩ হাজার টাকা, ভুসি ১৪৫০ টাকা, ক্যাটল ৮০০টাকা এবং ভুট্টা ১ হাজার টাকায় কিনতে হয়। এতে খামারের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

বাটামারা ইউনিয়নের খামারী মাকসুদুর রহমান বলেন, তাঁর ৯টি গরুর খামার রয়েছে। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামার টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। খাদ্য সংকটে অনেক খামারে দুধ উৎপাদন কমে গেছে। অনেকে খাদ্যের যোগান দিতে ব্যর্থ হয়ে গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। দাম না কমলে তাকেও গরু বিক্রি করে দিতে হবে।

মুলাদী পৌরসভার মাসুদ হাওলাদার বলেন, বাজারের খাদ্যের সাথে খড় অন্যতম উপযোগী খাবার। বিভিন্ন খাদ্যের দাম বাড়ার সঙ্গে খড়ের দাম বেড়ে গেছে। গত বছরের তুলনায় এবছর তিনগুণ বেশি দামে খড় কিনতে হচ্ছে। এতে অনেক খামারী গরুর খাদ্য সংকটে পড়েছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ সোহেল রানা জানান, গরু-ছাগলের খাদ্যের দাম ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। ফলে এসব খাদ্যের ওপর নির্ভরশীল খামারীরা বিপাকে পড়েছেন। তাদের বিভিন্ন জাতের ঘাসের চাষ করে গরুর খাদ্যের চাহিদা মেটাতে হবে।