সন্তানদের পাকা ঘরে ঠাঁই হয়নি বৃদ্ধার, পাঁচ বছর পর উদ্ধার

অনলাইন ডেস্ক।।
তিন দশক আগে স্বামীকে হারিয়ে বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন। সন্তানেরা এখন সাবলম্বী। থাকেন পাকা ও আধাপাকা বাড়িতে। সেই সন্তানদের কাছে ঠাঁই হয়নি বয়সের ভারে ন্যুব্জ চৌগাছা উপজেলার জগদীশপুর ইউনিয়নের স্বর্পরাজপুর গ্রামের ছায়রন বেগমের (৭৫)। গত পাঁচ বছর ধরে বাড়ির বাঁশঝাড়ের পাশে একটি ঝুপড়িতে ময়লা-আবর্জনার মধ্যে অমানবিক জীবন কাটাচ্ছেন তিনি।

খবর পেয়ে গত বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) ছায়রন বেগমকে উদ্ধার করে সন্তানদের ঘরে তুলে দিয়েছেন চৌগাছা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাফী বিন কবির। এ সময় তাকে খাদ্য ও নগদ অর্থ সহায়তা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিন ছেলেকে দুই দিনের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে দেখা করতে নির্দেশ দেন।

বৃদ্ধা ছায়রন বলেন, সকালে গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও স্বর্পরাজপুর দাখিল মাদরাসার সুপার আম্মাদুল তাকে খাবার দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই খাবার ছাড়া দুপুর পর্যন্ত আর কিছু খাননি। তিনি ইউএনওর কাছে অভিযোগ করেন, ছেলে ও পুত্রবধূরা তাকে বাড়িতেই যেতে দেন না। মাঝে মধ্যে খাবার দিয়ে যান। বিষয়টি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানলেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

সাবেক ইউপি সদস্য আম্মাদুল ইসলাম বলেন, মায়ের খাবার দেওয়া বা ঘরে রাখার মতো সক্ষমতা ছেলেদের আছে। এ বিষয়ে তাদের বলা হলেও তারা শোনে না।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাফী বিন কবির বলেন, খুবই অমানবিক ঘটনা। খবর শুনে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। ঐ মাকে উদ্ধার করে তার বড় সন্তানের ঘরে তুলে দিয়েছি। আমরা তাকে খাবার, হাতখরচের টাকা ও দুটি কম্বল দিয়েছি। তার ছেলেদের বাড়িতে পায়নি। আমার অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।