কলাপাড়ায় ইন্দোনেশিয়ান নাবিক নিয়ে নদীতে সার্ভে ভ্যাসেল ডুবি, উদ্ধার ১২

এইচ,এম,হুমায়ন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) ।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলে ১০ ইন্দোনেশিয়ান নাবিক ও দুই বাংলাদেশী সার্ভেয়ার নিয়ে ড্রেজিংয়ের কাজে নিয়োজিতএক্সপ্রেস-৫৪ নামে একটি সার্ভে ভ্যাসেল ডুবে গেছে।

সোমবার (০৬ ডিসেম্বর) সকালে রাবনাবাদ চ্যানেলের ৫ ও ৬ নং বয়ার পায়রা বন্দরের ফেয়ার বয় থেকে আনুমানিক ৭ নটিক্যাল দূরত্বে রাবনাবাদ চ্যানেলের ইনার সাইটে ইঞ্জিন রুমের পাশ দিয়ে ছিদ্র হয়ে পানি প্রবেশ করে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ভ্যাসেলটি ১২ জনকে নিয়ে ডুবে যায়। প্রথমে চ্যানেলে মাছ ধরারত জেলেরা তাদের উদ্ধার করে। খবর পেয়ে কোষ্ট গার্ড ও পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাস্টারের নেতৃত্বে পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ডেলটা নভেম্বর-৯২ টাগ বোটে করে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। উদ্ধার হওয়া ১০ বিদেশী নাবিকসহ ১২ জনই বর্তমানে সুস্থ্য রয়েছে বলে ড্রেজিংকাজে নিয়োজিত জান ডি নুল কোম্পানীর কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছে।

পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার ক্যাপ্টেন এস এম শরীফুর রহমান জানান, গত প্রায় এক বছ ধরে পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেল খনন কাজে নিয়োজিত রয়েছে বেলজিয়াম ভিত্তিক ড্রেজিং কোম্পানী জান ডি নুল। এ কোম্পানীর সার্ভে ভ্যাসেল এক্সপ্রেস-৫৪ রোববার ভোরে প্রতিদিনের মতো চ্যানেলের সাগর মোহনার ৫ ও ৬ নং বয়ার ( কেপি-৩৩ পয়েন্টে) সার্ভে কাজ করছিলো। এসময় হঠাৎ ৩৬ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ সার্ভে ভ্যাসেলটির পিছন দিক দিয়ে পানি প্রবেশ করে ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবে যায়। এসময় ভ্যাসেলে থাকা ১০ ইন্দোনেশিয়ান নাবিক ও দুই বাংলাদেশী সার্ভেয়ার নদীতে পড়ে যায়। এ সময় স্থানীয় জেলেরা ভাসমান অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে। তিনি আরো জানান, দূর্ঘটনার কারণ উদঘাটনের জন্য পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার ও মেরিন কমোডোর মামুন অর-রশীদকে প্রধান করে পাচঁ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি ও ইন্দোনেশিয়ান নাগরিকরা হলেন, ভ্যাসেলের মাষ্টার আরহাম আব্দুল রহিম, চিফ অফিসার মোহাম্মদ রিজাল, সেকেন্ড অফিসার দারমাওয়ান, চিফ ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ নূর, সেকেন্ড ইঞ্জিনিয়ার ত্রিইয়ান্ত ওয়েলার-১রহমত ফাদিল্লা, ওয়েলার-২ মুহাঃ আগাম ফয়েজ জুলফা, এবি-১ আদি ক্রিষ্টিয়ান, এবি-২ রুডি রহমান, কুকার জোজুয়া এ্যাঞ্জেল ব্রেট এবং বাংলাদেশী সার্ভেয়ার শহিদুজ্জামান ইমন ও সোহানুজ্জামান সুমন।