বরিশালে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে ওষুধ ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক।।
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার সাখাওয়াত হোসেনে জীবন নামে এক ওষুধ ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছেন বলে ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার সাহাবুদ্দিন খানের কাছে প্রমান স্বরুপ সিসি ফুটেজ ও অডিও রেকডিং সহ লিখিত এমন অভিযোগ দিয়েছেন ফার্মেসির প্রোপাইটার মাসুদ রানা।

অভিযোগে বলা হয়, প্রথম দফায় বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা শাখার এস আই মসরুদ উদ্দিন আহমেদ (বিপি-৮৪১৩১৫৪১১১) পলিথিনের ব্যাগে করে মাদক অধিদপ্তরের তফছিল ভুক্ত ঘুমের ঔষধ ইজিয়াম ও ব্যাথার নেলবান ইঞ্জেকশন নিয়ে ওই ওষুধের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখান। দ্বিতীয় দফায় সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে তল্লাশীর নামে ক্যাশ বাক্স থেকে ১৬/১৭ হাজার টাকা গায়েব করেন । সে সময় টিম ইনচার্জ এস আই হাবিবুর রহমানও যুক্ত হন। পরক্ষণে ডিবি অফিসে নিয়ে যাওয়া এই ব্যবসায়ীকে আবার ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ডিবি এসপির বরাদ দিয়ে অভিযান টিমের সাথে থাকা এ এস আই ইছাহাক অর্ধলাখ টাকা ঘুষ গ্রহন করেও আসামি ছাড়েনি। তাদের অপকর্মের ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ার শংকায় সোহেল সরদার নামে কথিত এক ক্রেতা বা সোর্সকেও এই মাদক মামলায় ২নং আসামি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, গত ০৫ নভেম্বর-২০২১ ইংরেজি তারিখ ডিবির এসআই মসরুদ উদ্দিন আহমেদ বাদী হয়ে মাদক ধারায় নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকার মাদ্রাসা বাজার’র জীবন মেডিকেল হলের ওষুধ ব্যবসায়ী সাখাওয়াত হোসেন ওরফে মাহমুদুল হাসান জীবন ও সোহেল নামে দুজনকে আসামি দেখিয়ে কোথয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন ডিবি পুলিশের এস আই মসরুদ উদ্দিন আহমেদ। মামলা নং-১৩। ওই মামলায় তিনি উল্লেখ করেছেন দোকান’র ক্যাশ বাক্সের নিচ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তদেরর তফসিল ভূক্ত ইনসেপটা কোম্পানির ৬ এম্পুল নেলবান টু ও অপসোনিন কোম্পানির ১০ এম্পুল ইজিয়াম ইঞ্জেকশন এবং ক্রেতা সোহেল সরদারের কাছ থেকে নেলবান ও ইজিয়ামসহ মোট ৯ এম্পুল মরফিন উদ্ধার করেছন। মামলার বাদী এস আই মসরুদ ও টিম ইনচার্জ হাবিবুর রহমান মৌখিক ভাবেও মিডিয়ার কাছে এটাই দাবি করেন।

দোকান মালিকের দাবি, ঘটনার অনেকাংশই সিসি ক্যামেরার ফুটেজে রয়েছে। মূলত এস আই মসরুদ উদ্দিনের নিজ হাতে পলিথিনের ব্যাগ নিয়ে দোকানে প্রবেশ এবং এ এস আই ইছাহাকের মুখে কোন কিছু না পাওয়রা সত্যতা স্বীকার প্রমান করে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে তারা দোকানে অভিযানের নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। ঘটনা প্রবাহ ফাঁস না হতে পারে সে জন্য উপরস্থ কর্মকর্তাদের সামনে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন করে দুজনের বিরুদ্ধে ব্যাথার ও ঘুমের ইঞ্জেকশন উদ্ধার দেখিয়ে তড়িগড়ি করে মাদক মামলা দায়ের করে এস আই মসরুদ উদ্দিন। এসব মিথ্যা ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ডিবির কথিত সোর্স যাতে মুখ খুলতে না পারে সেজন্য তাকে মামলার আসামি করা হয়েছে।

বরিশাল ঔষধ প্রশাষনের তত্ত্বাবধায় অদিথি স্বর্না জানিয়েছেন, অধিদপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী কোন ঔষধের দোকান বা কোম্পানিতে পুলিশের অভিযান করতে হলে ঔষদ প্রশাসনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা সাথে রাখতে হবে। কারন এটা ওষুধ অধিদপ্তরের নির্দেশনা। তাহলে ওই দপ্তরকে বাদ দিয়ে ডিবি পুলিশ কিভাবে অভিযানের নামে ব্যবসায়ীদের হয়রানী করেন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তার কোন সদুত্তর মেলেনি।

এই একই বিষয়ে বরিশাল মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পরিতোষ কুন্ডু জানান, ইজিয়াম ঘুমের এবং নেলাবান ব্যাথার ইঞ্জেকশন উৎপাদন ও বিক্রির অনুমোদন আছে। পুলিশ মামলা দিতে পারে কিন্তু আদালতে এসব মামলা টিকে না।

মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সাহাবুদ্দিন খান জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টির তদন্ত সাপেক্ষে বিচার করবেন।