কলাপাড়ায় ৩ ইউপি নির্বাচন: বিদ্রোহীদের কারণে দুর্বল নৌকার প্রার্থী

কলাপাড়া প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ইউপি নির্বাচনে ৩টি ইউনিয়নের তিনটিতে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোটের মাঠে দুর্বল নৌকার প্রার্থী। উপজেলার তিনটি ইউপি নির্বাচনে ১৪ জন চেয়াম্যান প্রার্থী, সাধারন সদস্য ১১১ জন ও সংরক্ষিত-মহিলা-সদস্য-৪৩জন-প্রার্থী-প্রতিদ্বন্দ্বিতা-করছেন।

তিনটি ইউপি নির্বাচনে ১৪ জন চেয়াম্যান পদে চাকামইয়া ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী হুমায়ুন কবির (কেরামত) (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীরা (স্বতন্ত্র) মো.মকবুল হোসেন তফাদার (আনারস), বিএনপি (স্বতন্ত্র) মো.মজিবর ফকির (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই)মো. আবদুল জলিল মিয়া (হাতপাখা), (স্বতন্ত্র) মো. বজলুর রহমান (টেলিফোন) ওই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা চৌদ্দ হাজার ৫৮ জন । এর মধ্যে পুরুষ ৭০৬৫ ও মহিলা ৬৯৯৩ । টিয়াখালী ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী সৈয়দ মশিউর রহমান (শিমু) (নৌকা), আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীরা (স্বতন্ত্র) মো: মাহামুদুল হাসান সুজন মোল্লার (আনারস), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) মো. আবু হানিফ (হাতপাখা), (স্বতন্ত্র) মো. কামাল ফরাজি (ঘোড়া) ওই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১২ হাজার ৫০০ শত ৫ জন ।

এর মধ্যে পুরুষ ৬২৭৭ ও মহিলা ৬২২৮। নীলগঞ্জ ইউনিয়নে নৌকা প্রার্থী বাবুল মিয়া, আওয়ামী লীগ বিদ্রোহীরা (স্বতন্ত্র), নাসির উদ্দিন বিপ্লব(আনারস), বিএনপি (স্বতন্ত্র) মো. আলাউদ্দিন আহম্মেদ (ঘোড়া), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (চরমোনাই) মো. আনোয়ার শিকদার (হাতপাখা), (স্বতন্ত্র) মো. ছগির আহম্মেদ (হুন্ডা) প্রতিক নিয়ে ভোট যুদ্ধে অবর্তীন হচ্ছেন ওই ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ২৩হাজার ১০০ শত ৯০ জন । এর মধ্যে পুরুষ ১১৯০১ ও মহিলা ১১২৮৯ ।

একক প্রার্থী দিলে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিপাকে রয়েছে আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা কোনো অংশেই কম নয়। কারণ, প্রচারণার সময় প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, প্রার্থীর ওপর হামলা ও প্রচারণায় বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছেন চেয়ারম্যান , সাধারন সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীরা। প্রতিদিন দুপুর থেকে মাইকে প্রচারনা , ফেসটুন, ব্যানার, পোষ্টার ও লিফলেটে ছেয়ে গেছে ইউপি এলাকায়। চায়ের স্টল হোটেল রেষ্টুরেন্টে এ নির্বাচন নিয়ে চলছে ভোটার ও সাধারন মানুষদের মধ্যে কথাবার্তা। এখানকার ভোটদের মধ্যে আনন্দ উল্যাস থাকলে তার মধ্যে রয়েছেও উদ্বেগ উৎকন্ঠায় বিরাজ করছে। সবার মধ্যে একটি আতঙ্ক কাজ করছে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারবেন কিনা।

নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না?, ভোট সুষ্ট ও নিরপক্ষ নির্বাচন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। সঠিক ভাবে ভোট হবে তো? প্রশাসনের দৃষ্টি নিরপেক্ষ থাকবে তো? এ নিয়ে আতঙ্কের কমতি নেই সরকার বিরোধী ভোটার, চেয়ারম্যান , সাধারন সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে। কোনো কোনো প্রার্থীর সমর্থকেরা বলেছেন, তাদের এজেন্টদের সামনে ভোট দিতে হবে। আবার কেই গোপনে ব্যালটেই ভোট দেয়ার কথা বলছেন। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। ভোট কেন্দ্র দখল ও সিল মারা শংকার মধ্যে প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামের চায়ের দোকান ও হাটবাজারে চলছে নির্বাচনী আলোচনা। কেউবা বলছেন পুর্বের স্টাইলের নির্বাচন আবার কেউ কেউ স্বপ্ন দেখছেন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন ভোটারদের আশ্বস্ত করছেন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের। বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত নৌকা, পাখা, ঘোড়া ও আনারস, টেলিফোন, হুন্ডা মার্কার প্রচার প্রচারণা চলছে সমানতালে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা বেড়ে চলেছে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৬ ডিসেম্বর রোজ রবিবার উপজেলা ৩টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

টিয়াখালী ইউনিয়নে(স্বতন্ত্র)প্রার্থী মো. কামাল ফরাজি বলেন, আমি নিজের মতো করে প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছে। জয়-পরাজয় আল্লাহর হাতে। আমি নির্বাচিত হলে জনগনের জন্য কাজ করর। কামাল ফরাজি প্রশ্ন করলে যে আপনি ভোটারদের কেমন সাড়া পাচ্ছেন? এমন প্রশ্নের উওরে তিনি বলেন, আমি সাধারন ভোটারের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। এর পরও আমার সর্বস্তরের ভোটাদের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। নির্বাচন সুষ্টু হবে কি না তা নিয়ে।

বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মাহামুদুল হাসান সুজন মোল্লার ও মো. মকবুল দফাদার জানান, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ থাকে আশা করি ২৬ ডিসেম্বর সুন্দর নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনে টিয়াখালী ও চাকামইয়া ইউপিতে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হবে। শুধু মাত্র নীলগঞ্জ ইউনিয়নে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাচন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুর রশিদ বলেন, ইভিএম ও ব্যালটের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ একটি নির্বাচন উপহার দেয়ার জন্য আমরা কাজ করছি।