টাকওয়ালাদের ভোট টানতে চুল বিমার প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
এশিয়ার অন্যতম দেশ দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ঘরেঘরেই টাকওয়ালা বা চুলপড়া রোগী। ৫ কোটি ১০ লাখ মানুষের দেশে ১ কোটি মানুষই ভুগছে চুল সংকটে। ৯ মার্চ নির্বাচনের আগে এই সুযোগটাই লুফে নিলেন দেশটির ক্ষমতাসীন দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী লি জায়ে মিয়ং (৫৭)।

গত বৃহস্পতিবার ভোট প্রচারণার এক বক্তব্যে টাকপড়া বা চুল পড়া ভোটারদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য বিমার অধীনে চুল বিমার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

আর এতেই রাতারাতি হাসির পাত্র হয়ে উঠেছেন লি। ব্যক্তিজীবনে নিজেও চুল পড়া রোগে হয়রান লি’র মুখেই প্রথম এ ধরনের অদ্ভুত নির্বাচনি এজেন্ডা শুনল দক্ষিণ কোরিয়া।

শনিবার (০৮ জানুয়ারি) সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রচারণার সংবাদ সম্মেলনে লি বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক লোকই চুল পড়া রোগে ভুগে বিদেশি ওষুধের শরণাপন্ন হচ্ছেন।

এতে বিপুল পরিমাণে টাকা খরচ হচ্ছে তাদের। আর এ কারণে স্বাস্থ্য বিমার আওতায় এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার তাগিদ দেন।’ ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ নিয়ে তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ট্রল হচ্ছে।

কেউ বলছেন, ‘আপনার চুলের জন্য সেরা প্রার্থী লি।’ কেউ কেউ তার বক্তব্য নিয়ে প্যারোডিও তৈরি করেছেন। অন্য একজন বলেছেন, ‘আসুন আমরা চুলপড়া রোধে লি জায়ে মিয়ং ইমপ্ল্যান্ট করি।’ লি’কে সমর্থন করে দুই সন্তানের জননী জিওং দা-ইউন বুধবার বিকালে চুলপড়া রোগে ভুগছেন এমন ভোটারদের সঙ্গে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন।

বৈঠকে জিওং জানান, চুলের যত্নে ছয় মাসে তার ৪ মিলিয়ন ওন (২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা) খরচ হয়ে যাচ্ছে। চুলপড়া রোগে অতিষ্ঠ হয়ে তিনি এর চিকিৎসা ছেড়ে দিয়েছেন। এ দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন লি’র উদ্যোগ যথাযথ। উল্টোদিকে লি’র প্রস্তাবটি বিরোধীদের ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

তারা এটিকে লি’র সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের হাতিয়ার হিসাবে অভিহিত করেছেন। বিরোধীপ্রার্থী আহন চেওল সু ‘একহাত’ নিয়েছেন লিকে।

সাবেক এই চিকিৎসক ও সফটওয়্যার টাইকুন বলেন, ‘তার এই প্রস্তাব দায়িত্বজ্ঞানহীন।’ এ প্রস্তাবের বিপরীতে নির্বাচিত হলে জেনেরিক ওষুধের দাম কমানোর এবং চিকিৎসার উন্নয়নে নতুন তহবিল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন চেওল সু।

গিয়াংগি প্রদেশের গভর্নর হিসাবে তার দায়িত্বপালনকালে সার্বজনীন মৌলিক আয় এবং আক্রমণাত্মক কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় খ্যাতি অর্জন করেছিলেন লি জায়ে।

জেজু ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক লি সাং-ই গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা যদি চুল পড়া রোধ করতে কয়েক বিলিয়ন ওন খরচ করে-তখন গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা রোগীদের কী হবে?’

তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়ার কতজন চুল পড়ায় ভুগছেন তার কোনো সরকারি তথ্য নেই। ন্যাশনাল হেলথ ইন্স্যুরেন্স সার্ভিস শুধু এমন লোকদের বাৎসরিক পরিসংখ্যান প্রদান করে-যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।