মুলাদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে জিও ব্যাগ ফেলেও নদী ভাঙন থামানো যাচ্ছে না

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীর মোহনায় বাটামারা ইউনিয়নের আলীমাবাদ এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার পরেও নদী ভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। নদীভাঙন রোধের ব্যবস্থা নেয়া হলেও কোনো কাজে আসছে না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙনের সৃষ্টি হচ্ছে।

নদীভাঙনে ভুক্তভোগীরা জানান, সাধারণত বর্ষা মৌসুমের শুরু এবং শেষের দিকে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দেয়। কিন্তু চলতি বছর আলীমাবাদ রামচর এলাকায় শীতকালেও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এই এলাকায় ইতিপূর্বে কয়েকবার জিও ব্যাগ ফেলে নদীভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই কাজে আসছে না। ভাঙনে বাটামারা ইউনিয়নের এবিআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়েছে।

আলীমাবাদ গ্রামের জাফর তালুকদার জানান, বাটামারা ইউনিয়নে এ গ্রামটি অনেক বড় ছিল। কয়েক বছর নদীভাঙনে এ গ্রামের অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে আড়িয়াল খাঁ ও জয়ন্তী নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছিল। বর্ষার পরে কিছুটা কমে যায়। এখন আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

একই গ্রামের জালাল আহম্মেদ জানান, বালু উত্তোলনের ফলে নদীতে ভাঙন সৃষ্টি হয়। বালু ব্যবসায়ীরা রাতের আঁধারে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে। অধিকাংশ বালু উত্তোলনকারী দিনের বেলায় পাশের কালকিনি উপজেলায় চলে যান। রাত হলেই আলীমাবাদ এলাকায় ঢুকে বালু কেটে নেন। এতে বালু ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও নদীভাঙনে কয়েকশ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

রামচর এলাকার আবদুল হান্নান বলেন, নদীভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড এখানে জিও ব্যাগ ফেলেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশগাছ দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে নদীভাঙন রোধ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নদীভাঙন রোধ করা যাচ্ছে না। কয়েক স্থানের জিও ব্যাগ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হলে হয়তো ভাঙন রোধ করা সম্ভব হতো।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাবুগঞ্জ উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাবেদ ইকবাল জানান, মুলাদী উপজেলার আলীমাবাদ এলাকায় ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এ বছরও ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মুলাদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রিয়াজুর রহমান জানান, মুলাদী উপজেলায় কোনো বালুমহাল নেই। তাই যেকোনো স্থান থেকে বালু উত্তোলন অবৈধ। প্রশাসন থেকে ইতিমধ্যে অভিযান চালিয়ে নাজিরপুর এলাকায় একটি ড্রেজার পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপরেও কেউ বালু উত্তোলন করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।