যে কারণে, নিজ শিশুকন্যাকে হত্যা করলেন শিক্ষিকা মা

অনলাইন ডেস্ক।।
সিলেটে নিজ শিশুকন্যাকে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন শিক্ষিকা মা নাজমিন জাহান। তিন দিনের রিমান্ডে থাকা নাজমিন জাহান রিমান্ডের দ্বিতীয় দিনে শনিবার সিলেট মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক সুমন ভুঁইয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় এমন স্বীকারোক্তি দেন।

রোববার (১৩ ফেব্রুয়ারি) শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বীকারোক্তির পর নাজমিনকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাজমিন জাহান আদালতকে জানান, স্বামী সাব্বির হোসেনের ওপর প্রচণ্ড ক্ষোভ ছিল। সেই ক্ষোভের জের ধরেই দেড় বছরের শিশু সাবিহাকে নিজ হাতে খুন করেছি।

নাজমিন জানান, প্রথম স্বামী ত্যাগের পর কাতার প্রবাসী সাব্বির হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। আগের স্বামীর সন্তান শাহরিয়ারকে ও সঙ্গে নিয়ে আসেন সাব্বিরের কাছে। বিয়ের পর সাব্বিরের ঘরে জন্ম নেয় সাবিহা। কিন্তু সাব্বির কাতার প্রবাসী হওয়ায় সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বাবার বাড়িতে নাজমিন ও সন্তানদের রেখে যাওয়ার জন্য দফায় দফায় চাপ দেন।

তিনি জানান, এ নিয়ে পরিবারে অশান্তি বিরাজ করে। এমন পারিবারিক অশান্তি ও স্বামী সাব্বিরের উপর ক্ষোভের জেরেই দেড় বছরের শিশুকন্যা সাবিহাকে প্রথমে বালিশচাপা ও পরে গলাটিপে হত্যা করে নাজমিন। এজন্য এখন নিজে অনুতপ্ত ও নিজেকে বড় অপরাধী বলে মনে হয় বলে আদালতকে জানান নাজমিন।

এর আগে নগরীর স্কলার্স হোমের স্কুল মিডিয়ামের শিক্ষিকা নাজমিন জাহানকে দেড় বছরের নিজ শিশুকন্যা সাবিহাকে হত্যার দায়ে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় এসএমপির শাহপরান থানা পুলিশ রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডের প্রথম দিনেই নাজমিন নিজেকে অসুস্থ দাবি করায় গত শুক্রবার সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর রিমান্ডের দ্বিতীয় দিন স্বপ্রণোদিত হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দেন নাজমিন।

নাজমিন সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ বাদেপাশা ইউনিয়নের কালিকৃষ্ণপুর গ্রামের মো. জিয়া উদ্দিনের মেয়ে। গত বুধবার নাজমিনের গর্ভজাত দেড় বছর বয়সী সন্তানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে দেন।

পুলিশ জানায়, সিলেটের দক্ষিণ সুরমার গোলাপগঞ্জ এলাকার নাজমিনের সঙ্গে দক্ষিণ সুরমার বলদি এলাকার সাব্বির হোসেনের বিয়ে হয় ২০১৫ সালে। বিয়ের পর থেকে তারা শাহপরান এলাকায় থাকেন।