বীর প্রতীক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মালেক আর নেই

গৌরনদী প্রতিনিধি, বরিশাল।।
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের খেতাব প্রাপ্ত বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের বাসিন্দা বীর প্রতীক বিডিআরের অবসরপ্রাপ্ত হাবিলদার আব্দুল মালেক (৮০) আর নেই। তিনি সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় নিজ বাড়ীতে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহে–রাজেউন)। দীর্ঘদিন যাবত তিনি হৃদরোগ, ডায়াবেটিকসসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। ১০ বছর আগে পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হয়ে তিনি পঙ্গুত্ব বরন করেন। একই সাথে বাকশক্তি ও শ্রবনশক্তি হারিয়ে তিনি শয্যাশায়ী হন।

তিনি স্ত্রী, ৪ পুত্র, ২কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস।

আব্দুল মালেক ছিলেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ গ্রহনকারী রনাঙ্গন কাঁপানো ৯ নং সেক্টরের গ্রুপ কমান্ডার ও বীরপ্রতিক প্রাপ্ত একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

পাবিবারিক সূত্রে জানাগেছে, গৌরনদীর কুতুবপুর গ্রামের মৃত খাদেম আলী চাপরাশির ছেলে আব্দুল মালেক চাপরাশি ১৯৬১ সালে তৎকালিন ইপিআর বাহিনীতে যোগদান করেছিলেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি চাকুরি ছেড়ে এলাকায় চলে আসেন। এলাকার যুবকদের নিয়ে মুক্তিবাহিনীর একটি ইউনিট গঠন করেন। অতপর ট্রেনিংয়ের জন্য তাদের ভারত নিয়ে যান। ভারতের বেগুনদিয়া টাকী ক্যাম্পে তাদের ট্রেনিং প্রদান করা হয়। পরবর্তিতে আব্দুল মালেককে ৫৬ জন মুক্তিবাহিনীর একটি দলের গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।তিনি তাদেন নিয়ে নিজ এলাকায় ফিওে এসে মুক্তিযুদ্ধের ৯ সেক্টরের অধীনস্থ আঞ্চলিক কমান্ডার নিজাম উদ্দিন ও হেমায়েত বাহিনীর সাথে যুক্ত হন। এর পর তিনি বরিশালের গৌরনদী,আগৈলঝাড়া, মুলাদী, উজিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেন।
তিনি ছিলেন ৯নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর (অবঃ) জলিলের বিশ্বস্ত সহোচর।

তার সহযোদ্ধারা ছিলেন গৌরনদী উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বুলেট সেন্টু, ডেপুটি কমান্ডার মনিরুল হক, সোহরাব হোসেন খানসহ এলাকার অর্ধশত মুক্তিযোদ্ধা। স্বাধীনতা যুদ্ধে অসাধারন অবদান রাখার জন্য তাকে বীর প্রতীক খেতাবে ভুষিত করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তি সময়ে তিনি পূনরায় বিডিআর বাহিনীতে যোগদান করেন। হাবিলদার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর ১৯৮৪ সালে তিনি অবসর গ্রহন করেছিলেন।