পটুয়াখালীতে বাবার মামলায় শিক্ষক ছেলে গ্রেফতার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি।।
মা-বাবাকে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় মোঃ মাহাবুব আলম লিটন (৪০) নামের এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পটুয়াখালী পৌরশহরের কলেজ বোর্ডের মৃধা বাড়ি সড়ক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার কারা হয়েছে।

মোঃ মাহাবুব আলম লিটন পটুয়াখালী পৌরশহরের কলেজ বোর্ড এলাকার মোঃ আবুল হাশেম হাওলাদারের ছেলে। সে গলাচিপা উপজেলা আমখোলা ইউনিয়নে’ দক্ষিণ বাউরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের’ বি.এস.সি শিক্ষক। মোঃ মাহাবুব আলম লিটনে স্ত্রী মোসাঃ আকলিমা বেগম পটুয়াখালী সদর উপজেলার ‘আউলিয়াপুর বোর্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’র শিক্ষক।

ভুক্তভোগীর বাদীপক্ষের আইনজীবী মোঃ জাহিদুল ইসলাম (রকি) জানায়, মোঃ মাহাবুব আলম লিটনের বাবা পটুয়াখালী জেলা পরিষদের উচ্চমান সহকারী প্রকৌশলী শাখায় চাকরি করতেন। ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে অবসারে যায় সে। তারপরে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে পৌরশহরের মৃধাবাড়ি সড়কে একটি বাড়ি করে বসবাস করতেন। তার মেঝ ছেলে মোঃ মাহাবুব আলম লিটন ও পুত্রবধূর মোসাঃ আকলিমা বেগম দুই জনই স্কুল শিক্ষক। তারা বাবা-মায়ের ভরণপোষণ দিতো না, উল্টো ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত বাবার সংসারে ছিলেন। তাছাড়া বাবার কাছ থেকে বিভিন্ন কৌশলে কয়েক লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ছেলে ও পুত্রবধূর দাবিকৃত টাকা দিতে না পরলে ভাড়াটিয়াদের বাসা থেকে তাড়িয়ে দিতো, শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করতে বাবা-মাকে। গৃহবধূ মোসাঃ আকলিমা বেগমের নির্যাতনে তার শ্বাশুড়ি অনেকদিন হাসপাতালে ছিলো। টাকা দিতে না পারায় ২০২১ সালের প্রথম দিকে বাবা-মাকে শারিরীক নির্যাতন করে বাসা থেকে তাড়িয়ে দেয় শিক্ষক ছেলে ও পুত্রবধূর। এরপর ওই বৃদ্ধা বাবা-মা গ্রামের বাড়ি গলাচিপাতে চলে যায়। কিছুদিন পরে পটুয়াখালীতে ফিরে আসেনও ওই বাসায় ওঠা আর সম্ভব হয়নি বৃদ্ধা বাবা-মার। পরে অন্য একটি বাসায় গিয়ে ওঠেন তারা।

বড় ছেলে মোঃ ফারুক হোসেন নিয়মিত বৃদ্ধা বাবা মায়ের খোঁজ খবর নিতেন। ফারুক চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি বৃদ্ধা বাবা-মায়ের সাথে দেখা করতে আসলে বাসায় গিয়ে হামলা চালায় শিক্ষক মোঃ মাহাবুব আলম লিটন। এসময় দাও নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করতে চেয়েছে বাবা এবং বড় ভাই ফারুক হোসেনকে। এতে ওই বৃদ্ধা বাবা ৭ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার মেঝ ছেলে মোঃ মাহাবুব আলম লিটনকে প্রধান আসামি করেন। এতে তার পুত্রবধূ মোসাঃ আকলিমা বেগমকেও আসামি করা হয়েছে। আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে প্রধান আসামি মোঃ মাহবুব আলম লিটনকে ওয়ারেন্ট দিয়েছেন। দ্বিতীয় আসামি মোসাঃ আকলিমা বেগমের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।

তিনি আরও বলেন, মোঃ মাহাবুব আলম লিটনের বিরুদ্ধে ২০২১ সালের অক্টোবর মাসে পটুয়াখালী সদর থানায় এবং চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করেন তার বাবা। এর আগে পুলিশ সুপারের কাছেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

থানায় অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোঃ রেজাউল জানায়, শিক্ষক মোঃ মাহাবুব আলম লিটন ও তার স্ত্রীকে এবং তার বাবা-মাকে নিয়ে থানায় বসা হয়েছিলো এবং বুঝানো হয়েছে।

পটুয়াখালী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুহা: মুজিবুর রহমান জানান, যেহেতু এটা পারিবারিক মামলা এবিষয়ে আমার কিছু বলার নাই।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, তাকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে