বাবুগঞ্জে কীটনাশক দিয়ে অবাধে মৎস্য শিকার

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি।।
বরিশালের বাবুগঞ্জে নদ-নদীতে নিষিদ্ধ কীটনাশক দিয়ে অবাধে মৎস্য শিকার করা হচ্ছে। রেণু পোনাসহ মাছের ভবিষ্য প্রজম্ম বিনষ্ট হওয়ায় আগামী দিনে মৎস্য সম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছে মৎস্য অফিস।
উপজেলার সন্ধ্যা, সুগন্ধ্য ও আড়িয়াল খাঁ নদ-নদীর বিভিন্ন স্থানেবিশ তেল, গানপাউর্ডার রোটেননসহ বিভিন্ন দিয়ে মৎস্য শিকার করায় নদীগুলো মৎস্য সম্পদ শূন্য হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিস, স্থানীয় জেলে ও বিশেষজ্ঞরা উদ্বগ প্রকাশ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহন না করায় কীটনাশক দিয়ে মৎস্য শিকার বন্ধ হচ্ছে না।

উপজেলা রহমতপুর ইউনিয়নের রাজগুরু গ্রামের প্রবীন জেলে ইসমাইল সিকদার জানান, বছর খানেক আগে দেশের উত্তর পশ্চিম অঞ্চল থেকে একদল মৎস্য শিকারি বাবুগঞ্জ উপজেলার সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা ও আড়িয়াল খা নদীতে মাছ ধরতে আসে। ওই মৎস্য শিকারিরা ছোট ছোট নৌকা করে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। অজ্ঞাত পরিচয়ের মৎস্য শিকারিরা দিনের বেলায় নদীর বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়ে সন্ধ্যার দিকে চাল ভাজি ও সিদ্ব করে বিষ তেল, গানপাউডার ও রোটেননসহ নাম না জানা কীটনাশক মিশ্রিত করে নদীতে ফেলে ২/৩ ঘন্টার পরে মৎস্য শিকারিরা বস্তা নিয়ে অক্সিজেন পরিহিত মাস্ক পরে কীটনাশক মিশ্রিত সিদ্ব চাল ফেলে দেয়া স্থানে নেমে পড়ে এবং বস্তাভর্তি মাছ ওঠায়। পরবতীতে নদীর পাড়ে দেখা যায় মাছের রেনু পোনাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাছ মরে পড়ে আছে। স্থানীয় জেলেদের ধারনা কীটনাশক মিশ্রিত চাল ভাজি কিংবা সিদ্ব চাল ফেলায় ওই স্থানে সব ধরনের মাছ মরে যায় এবং নদীর তলদেশ জমা হয়।

দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিন রাকুদিয়া গ্রামের জেলে আক্কাস জানান, কীটনাশক দিয়ে মৎস্য শিকার শুরুর পর থেকে নদীতে এখন আর মাছ পাওয়া যাচ্ছেনা। রেণু পোনাসহ ক্ষুদ্র মাছ মরে যাওয়ায় আগামী দিনেও বড় মাছ পাওয়া যাবে না। এ ধরনের হীন ও ঘৃণ্য অপরাধের মাধ্যমে মাছ শিকার করা হলেও  প্রশাসন কেনো কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করছে না তা তিনি বুঝে  উঠতে পারচ্ছেন না।

স্থানীয়রা জানান, রাতে ছোট ছোট নৌকা রাজগুরু নতুন চর, কুমারিয়া পিট চর, রফিয়াদী, ক্ষুদ্রকাঠীর উত্তর প্রান্তে জেগে ওঠা চর, দোয়ারিকা ব্রিজের নিচে, দক্ষিন রাকুদিয়া, কাঠের চর এলাকায় অবস্থান করে জাল নিয়ে। রাতের বেলায় মৎস্য শিকার করে রাতেই উধাও হয়ে যায়। এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না করা হলে অচিরেই সন্ধ্যা, সুগন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদ মাছ শূন্য হয়ে পড়বে।

এব্যাপারে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার সাইদুজ্জামান জানান, বাবুগঞ্জ উপজেলা তিনটি নদী দ্বারা বেষ্টিত। কীটনাশক দিয়ে মৎস্য শিকার করা আইনত নিষিদ্ধ। স্থানীয়রা সচেতন হলে এ ধরনের অপর্কর্মের সাথে যারা জড়িত তাদেরকে সহজে গ্রেফতার করা সম্ভব। তবে তিনি স্বীকার করেছেন এধরনের সংবাদ তারা পেয়েছেন তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চরছে।