বলেশ্বর নদীতে অভিযান: পাথরঘাটায় প্রশাসনের ওপর হামলায় আহত ৬

পাথরঘাটা প্রতিনিধি (বরগুনা)।।
বরগুনার পাথরঘাটাসংলগ্ন বলেশ্বর নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকারের ওপর অভিযানের সময় প্রশাসনের উপর আসাধূ জেলেদের হামলার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমাড় অপু বাদী হয়ে ৩৫ জনকে আসামী করে পাথরঘাটা থানায় মামলা করেন।

এর আগে শনিবার দুপুর ২টার দিকেবলেশ্বর নদীর পদ্মা স্লুইজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের ওপর হামলা চালায় স্থানীয় ২ শতাধীক নারী ও পুরুষ।

আহতদের মধ্যে ৬জনকে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মাদ আল মুজাহিদ ও পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) সঞ্জয় কুমার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আহতরা হলো, উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, অফিস স্টাপ আবু বক্কর সিকদার, লেবার মো. কামাল সিকদার, আলমগীর হাওলাদার, ফারুক আকন ও মো. রেজওয়ান।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু রবিবার বেলা ১১ টায় টেলিফোনে জানান, তারা শনিবার অবৈধ মৎস্য শিকারের জাল ও উপকরণ জব্দ ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার কাজে পদ্মা স্লউজ এলাকায় গেলে হঠাৎ তাদের প্রতি আক্রমন করে, ইট পাটকেল ছোড়ে। এতে ৫ জন আহত হলে পাথরঘাটা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্তে থানা পুলিশ, কোস্টগার্ড, আনসার সদস্য ও মৎস্য অফিসের শ্রমিকদের নিয়ে উপজেলার বিষখালি ও বলেশ্বর নদীতে মাছ ধরার অবৈধ জাল উদ্ধারের জন্য দুপুরের অভিযান যাই। এসময় উপজেলার পদ্মা স্লুইজের পশ্চিম পাশের খাল থেকে মাছ ধরার অবৈধ জাল উদ্ধার করে জেলে বেল্লাল ফকিরকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তারসহ অন্যান্য জেলেদের থেকে জব্দ করা অবৈধ জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করার জন্য দুপুর দেড়টার দিকে পদ্মা সুলিজের পশ্চিম পার্শ্বে খালের উত্তর পাড়ে উঠানো হলে স্থানীয় জেলেরা উত্তেজিত হয়ে জেলেরা প্রশাসনকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠি-সোঠা হামলা চালায়। এসময় পুলিশ, কোস্টগার্ড ও আনসার সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আহতদের উদ্ধার পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে রাতে কতৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে শনিবার গভীর রাতে পাথরঘাটা থানায় সরকারি কাজে বাধা প্রদানের জন্য এ মামলা করেন। মামলার আসামী সবাই মৎস্য পেশার সাথে জড়িত।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মুহাম্মদ আল-মুজাহিদ জানান, বঙ্গোপসাগরের মোহনা বিষখালি ও বলেশ্বর নদী এলাকায় বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ কারেন্ট জাল, বেহুন্দী, ঘোপ, চরঘেরাসহ ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে অবাধে মাছ শিকার করছে। এগুলো বন্ধ করতে উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়েয় মৎস্য বিভাগ অভিযান চালায়। এসময় জেলেরা হঠাৎ আমাদের উপর হামলা চালায়। এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানায় ৩৫ জনকে আসামী করে মামলা হয়েছে।

পাথরঘাটা থানান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আবুল বাশার মামলার কথা স্বীকার করে জানান,নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জেলেরা তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।তদন্ত চলছে এবং আসামী ধরার চেষ্টা অব্যহত রয়েছে।