মুলাদীতে সবজি চাষে স্বাবলম্বী মকসুদুর রহমান

ভূঁইয়া কামাল মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার বাটামারা ইউনিয়নের সেলিমপুর গ্রামের আব্দুল মাজেদ আকন্দের ছেলে মকসুদুর রহমান আকন্দ। করোনা তার ব্যবসা বন্ধ হওয়ায় কৃষি কাজে নেমে স্বাবলম্বী হয়েছেন তিনি। এখন তার সবজি খেতে প্রতিদিন ৫/৭জন শ্রমিক কাজ করছেন। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হয়ে উঠেছেন। মকসুদুর রহমান নিজ এলাকায় গড়ে তুলেছেন প্রায় ৪ একর জায়গা নিয়ে সবজির বাগান। রয়েছে পোল্টি ও মাছের খামার। সবজি, পোল্টি ও মাছের খামারে একদিকে যেমন তিনি লাভবান হচ্ছেন, তেমনি এলাকায় সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। আর তাঁর ব্যবসায় আয় বেড়েছে কয়েকগুণ। তার বাৎসরিক আয় প্রায় ৬ লাখ টাকা।

মকসুদুর রহমান আকন্দ জানান, ঢাকার বাড্ডা এলাকায় চশমা, ঘড়িসহ ইলেক্ট্রনিক্সের ব্যবসা ছিলো। ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে ব্যবসায় ধ্বস নামতে শুরু করে। পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকায় থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই বাধ্য হয়েই ঢাকার সবকিছু গুটিয়ে দেশের বাড়িতে চলে আসি। এসে কী করবো ভেবে পাচ্ছি না। পরবর্তীতে সেলিমপুর বাজারে একটি ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসায় সুবিধা করতে না পেরে নিজের এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ শুরু করি। মকসুদুর রহমান আকন্দ আরও বলেন, সবজি ক্ষেতে বর্তমানে বারোমাসি তরমুজ, বিপুল প্লাস টমেটো, করলা, কাঁচা মরিচ, বেগুন, ঝিঙে, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁকি শাক, পালং শাক, লাল শাকসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি রয়েছে। এসব সবজি সেলিমপুর, আনন্দ বাজার, খাসেরহাট, নোমরহাট, মুলাদী বন্দরসহ উপজেলার সকল বাজারে পাইকারি বিক্রয় করে থাকি। অনেক সময় খেত থেকেই সবজি পাইকারি বিক্রি হয়ে যায়। সবজি চাষে বর্তমানে মাসিক আয় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো।

মকসুদুর রহমান আকন্দের সবজি খেতের শ্রমিক আলাউদ্দীন বলেন, এলাকায় তেমন একটা কর্মসংস্থান নেই। সবজি খেতে নিয়মিত পরিশ্রম করে সংসার চলছে। এছাড়া পোল্টি ও মাছের খামারেও অন্যান্যরা শ্রম দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সেলিমপুর গ্রামের বাসিন্দা জসিম উদ্দীন বলেন, মকসুদুর রহমান আকন্দের চাষকৃত সবজি এলাকায় অপেক্ষাকৃত কম দামে পাওয়া যায়। প্রতিদিন খেত থেকে তুলে আনা তাজা সবজি স্থানীয় বাসিন্দারা বাজারে কিনতে পারছে। তবে সবজি চাষে সফল হলেও সরকারি প্রণোদনা না পাওয়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন মকসুদুর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারি পরামর্শ কিংবা সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাইনি। কৃষি কর্মকর্তাদের সহযোগিতা পেলে আরও ভালো করতে পারতাম।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. অহিদুল ইসলাম বলেন, কেউ স্বউদ্যোগে সবজি চাষ করে সফল হয়েছে এটা পরবর্তী প্রজন্মকে চাষাবাদে উৎসাহ যোগাবে। মকসুদুর রহমান আকন্দ যেকোনো পরামর্শ কিংবা সহযোগিতার জন্য উপজেলা কৃষি দপ্তর, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করলে তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।