আগৈলঝাড়ায় সরকারি জায়গা দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের উৎসব চলছে

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি, বরিশাল।।
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সরকারী খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসন এ কার্যক্রম বন্ধে একাধিকবার পদক্ষেপ নিলেও দুর্গম অঞ্চলে দখলের কর্মযজ্ঞ চলে আসছে। আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে হাজার হাজার কৃষক পরিবারকে সেচ সংকটের মুখে ফেলে নিজেদের স্বার্থের জন্য সরকারী খাল দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রভাশালীরা। দখলের এই উৎসব চলছে উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ছয়গ্রাম এলাকায়।

সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার রতœপুর ইউনিয়নের ছয়গ্রাম বাজারের সরকারী খালের একপাশ দখল করে স্থানীয় রহিম আকন, মশিউর রহমান, সেরাল গ্রামের সাইদুল সেপাই ও জসিম সেপাই পাকা ভবন নির্মাণের জন্য কাজ করছেন। এই দখলের কারণে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ছয়গ্রাম, কাজীরহাট, ডিএসবিরহাট এলাকার কয়েকশ একর জমিতে বোরো ধানের চাষ ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

খাল দখলকারী রহিম আকন বলেন, দোকানঘর তোলার জন্য কাজ শুরু করেছি। এতে আর সমস্য কি? খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ করায় চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে বিভিন্ন খালের পানি প্রবাহ কমে গেছে। এতে ওই এলাকার কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নির্মাণকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।

স্থানীয় কৃষকরা অভিযোগ করেন, ছয়গ্রাম-মাহিলারা খালের ছয়গ্রাম বাজারে কয়েকদিন ধরে সরকারী খাল দখল করে পাকা দোকান ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে। খাল দখল করে পাকা দোকান ঘর নির্মাণের ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হওয়ায় চলতি বোরো মৌসুমের পানি সেচের জন্য বিপাকে পরেছে ওই এলাকার কৃষকরা।

নাম না প্রকাশের শর্তে ছয়গ্রাম বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ছয়গ্রাম বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাদের কাঠের ঘর ভেঙ্গে সরকারী জায়গায় পাকা ভবন নির্মান করছেন।

ব্যবসায়ী সাইদুল সেপাই জানান, আমরা আমাদের পুরাতন টিনের ঘর ভেঙ্গে পাকা ভবন নির্মান করলেও কোন ভবনের ছাদ করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র পুরাতন ঘরটি সংস্কার করা হচ্ছে।

স্থানীয় জসিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান, জামাল হোসেন, রায়হান মোল্লাসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারী খাল রক্ষার দাবী এবং খালে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করতে হবে। উপজেলার ছয়গ্রাম থেকে মাহিলারা পর্যন্ত এই খালে ছোট বড় অনেক নৌকা চলাচল করে। সরকারী খাল দখল করে অবৈধ ভাবে স্থাপনা নির্মাণ করায় এই খালে চলাচলকারী নৌযান গুলো বিপাকে পরবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন জানান, এক্ষেত্রে দখলের খবর পাওয়া মাত্রই দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হলে সরকারী সম্পত্তি দখল অনেকটাই কমে আসবে। তাই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবুল হাশেম বলেন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ নির্মাণাধীন ভবন অপসারনের ব্যবস্থা করা হবে। দখলদাররা যতোই প্রভাবশালী হোক না কেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।