বরিশালে নতুন ভবনের ১৩ এজলাসে কমবে মামলার জট

রূপালী ডেস্ক।।
অবশেষে ৪৯ কোটি ১৭ লাখ টাকায় নির্মিত বরিশালের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে কাটছে এজলাস সংকট। ভবনে ১৩টি এজলাসের মাধ্যমে শুরু হচ্ছে আদালতের কার্যক্রম। এজলাস সংকট কাটায় বছরের পর বছর ধরে লেগে থাকা মামলার জট অনেকাংশে কেটে যাবে বলে আশা আইনজীবীদের।

এছাড়া বিচারপ্রার্থী থেকে শুরু করে তাদের সঙ্গে থাকা শিশুদের জন্যও আদালতে করা হয়েছে বিশেষ কক্ষের ব্যবস্থা। ১০ তলা ভবনে ওঠা-নামায় থাকছে তিনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লিফট ও সুপরিসর সিঁড়ি।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১২ জানুয়ারি ১০তলা বিশিষ্ট চিফ জুডিশিয়াল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়। আইনমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ২০১৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর ভবন নির্মাণ কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়। ৪৯ কোটি ১৭ লাখ টাকার বেশি আরডিপিপি মূল্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়। ৩০ মাসের মধ্যে কাজটি সম্পন্নের নির্দেশ থাকলেও নানা কারণে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি এসে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়।

১২ তলা ফাউন্ডেশনের ১০তলা বিশিষ্ট ভবনের প্রথম ফ্লোরের আয়তন ১৩ হাজার ৯১২ বর্গফুট ও পরের ৮টি ফ্লোর (দ্বিতীয় তলা থেকে ১০তলা পর্যন্ত) ১২ হাজার ১৫৩ স্কয়ার ফুট করা হয়েছে। ভবনে বিচারক ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে আলাদা ব্যবস্থা।১০ তলা এ ভবনে ১৩টি এজলাস থাকবে।

এছাড়াও বিচারকদের খাস কামরা, শিক্ষানবিশ বিচারকদের জন্য আলাদা কক্ষ, কনফারেন্স রুম, নামাজের কক্ষ, ক্যাফেটিরিয়া, গাড়ি পার্কিংয়েরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া বিচারপ্রার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা দূরীকরণে প্রতিটি ফ্লোরে রাখা হয়েছে চার থেকে পাঁচটি টয়লেট, এজলাসের থেকে দূরে রাখা হয়েছে বিচারপ্রার্থীদের জন্য বসার জায়গা।

এছাড়া বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে আসা ছোট শিশুর খাওয়া ও রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবনের ওঠানামার জন্য রয়েছে এক হাজার কেজি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি অত্যাধুনিক লিফট। এর মধ্যে একটি বিচারক ও অপর দুটি আদালতের অন্যান্য কর্মচারী এবং বিচারপ্রার্থীরা ব্যবহার করতে পারবেন। বিচারপ্রার্থীদের সুবিধার্থে রয়েছে চারটি সিঁড়ি।

সরকারি কৌসুলি একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বছরের পর বছর ধরে এক এজলাসে ২-৩ জন বিচারক বিচারকাজ পরিচালনা করে আসছেন। এ জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হতো এজলাস খালি হওয়ার জন্য। একজন নামতেন অপরজন উঠতেন। এতে করে বিচার প্রার্থীদেরও মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হয়েছে। এজলাস সংকটের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের বসারও জায়গা ছিল না। তারা আদালতের বারান্দায় অথবা আদালত প্রাঙ্গণে গাছের নিচে সময় কাটাতেন। এ সময় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হতো বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে আসা শিশুদের। অনেক শিশু রয়েছে যাদের ব্রেস্ট ফিডিং করাতে জায়গা ছিল না। নতুন ভবনে এসময় সমস্যার সমাধান মিলেছে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি লস্কর নুরুল হক বলেন, এজলাস সংকটের কারণে মামলার জট সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ভবনের অভাবে বেশ কয়েকটি এজলাস রয়েছে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলায়। এতে করে বিচারক, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের দৌড়াদৌড়ি চলতো, বাড়তি ছিল ভোগান্তি। ঝুঁকিপূর্ণ ছিল আসামি আনা-নেওয়া। নতুন ভবনে কার্যক্রম শুরু হলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আদালত ওই ভবনে চলে আসবে। এছাড়া ১৩টি পৃথক এজলাসে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় মামলার জট অনেকাংশে দূর হবে।

প্রসঙ্গত, করোনা মহামারির কারণে ১০ তলা ভবনের উদ্বোধন নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। দীর্ঘ তিন বছর পর বৃহস্পতিবার (০৩ মার্চ) বিকালে ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে যুক্ত হয়ে ভবনের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।