বিশ্বের অন্য সেরা খেলোয়াড়দের যে বৈশিষ্ট সাকিবের মধ্যে নেই

স্পোর্টস ডেস্ক।।
চোখ বন্ধ করে যে কেউ বলে দিতে পারবে, বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। এটা নিয়ে কেউ দ্বিমত করবে না বলেই মনে হয়। বিশ্ব ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডারও তিনি। সুযোগ ছিল সবার সেরা হওয়ার। কিন্তু সেই সুযোগ সম্ভবত স্বেচ্ছায় নষ্ট করছেন এই তারকা।

ব্যাটে-বলে দীর্ঘ সময় ধরে সমান অবদান রেখে যাওয়া এমন ধারাবাহিক পারফর্মার বিশ্ব ক্রিকেটে খুব কমই আছে। একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে একই সময় আইসিসির তিন ফরম্যাটের শীর্ষ অলরাউন্ডার ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকেই সাকিব কোনো না কোনো ফরম্যাটে অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করছেন। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করে প্রশংসা কুঁড়িয়েছিলেন সবার।

তবে একটা দিক দিয়ে বাকি বিশ্বসেরা খেলোয়াড়দের থেকে বেশ পিছিয়ে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। সেটা হলো- জাতীয় দলের প্রতি দায়বদ্ধতা। প্রতিবেশি ভারতের দিকেই তাকাই। আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটার বিরাট কোহলি। বয়স হওয়ায় তিনিও বিভিন্ন সিরিজ থেকে বিশ্রাম নেন। তবে সেটা সাধারণত টি-টোয়েন্টি সিরিজ হয়। ইনজুরি সমস্যা না থাকলে টেস্ট খেলা কখনোই মিস দেন না তিনি। এরই মধ্যে খেলে ফেলেছেন শততম টেস্ট। জাতীয় দলের খেলা থাকলে তিনি অন্য কোথায় কোনো সময় দেন না। সব মনোযোগ ক্রিকেটকে কেন্দ্র করেই।

ভারতের বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মার কথাও বলা যায়। যে বয়সে এসে ক্রিকেটাররা অবসর নেওয়ার চিন্তা করে, শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য ফরম্যাট বেছে বেছে খেলে; সেই বয়সে ভারতের তিন ফরম্যাটের অধিনায়কের দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, অ্যারন ফিঞ্চ, নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসন, ইংল্যান্ডের জো রুট, জস বাটলার, জেমস অ্যান্ডারসন, দক্ষিণ আফ্রিকার এবিডি ভিলিয়ার্স প্রমুখ। তারা যতদিন ক্রিকেটে আছেন কিংবা খেলেছেন, সবাই কেবল ক্রিকেটটাই খেলেছেন। অন্য পেশায় মনোযোগ দেননি। তাদের কাছে ক্রিকেট খেলাটা পেশাদারিত্ব।

অন্যদিকে, এখনো অবসর নেননি সাকিব আল হাসান। কিন্তু তার আগেই জড়িয়ে পড়ছেন একের পর এক ব্যবসায়। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ব্যবসার কারণে এখন অনেক সিরিজেই তার সার্ভিস পাচ্ছে না বাংলাদেশ। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে প্রায় সময়ই ছুটি নিচ্ছেন। এর বাইরে সাকিবের পরিবার ও সন্তান এখন যুক্তরাষ্ট্রে থাকে। সেখানেও সময় দিতে হয়। একবার এক সাক্ষাৎকারে সাকিবকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এখন তার কাছে কোনটা বেশি প্রাধান্য পায়, ব্যবসা না কি ক্রিকেট? জবাবে সাকিব বলেছিলেন, তিনি এ ব্যাপারটা নিয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। কারণ, ক্রিকেটই তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সেটার প্রতি একটা দায়বদ্ধতা আছে। আবার ব্যবসাটাও দেখতে হয়।

সবমিলিয়ে খেলার প্রতি একজন পেশাদার ক্রিকেটারের যে দায়িত্ববোধ থাকার কথা, সেটা এই মুহূর্তে সাকিবের যে নেই তা যে কেউ বলে দিতে পারবে। সাকিবের বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তা প্রকাশও পায়।