ডমিঙ্গোর চোখে মিরাজের রান আউট ‘অন্যতম সেরা’

স্পোর্টস ডেস্ক।।
ডারবানের কিংসমিডের সবুজ ঘাসের উইকেটে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পাবে। বাড়তি বাউন্স থাকায় টাইগার টেস্ট অধিনায়ক মুমিনুল হক টস জিতে ফিল্ডিংয়ে নামতে দেরি করেননি। তবে উইকেটের সুবিধাটুকু আদায় করে নিতে পারেনি টাইগার পেসাররা।

অদ্ভুত এক কারণে ৩৫ মিনিট পরে শুরু হয়েছে সকালের সেশন। কিংসমিডের সাইটস্ট্ক্রিনে কারিগরি ত্রুটির নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু করা যায়নি। হয়তো আদ্রতা কাটাতে কালক্ষেপন করেছিলেন স্বাগতিকরা। বাংলাদেশ যেই প্লান করে টস জিতে বোলিং নিয়েছিল, সেই প্লানটা ঠিকঠাক কাজে লাগেনি। বিশেষ করে সকালের সেশনের প্রথম সময়টাই ব্যাটসম্যানদের জন্য আতঙ্ক। ঠিক সময়ে খেলা শুরু হলে হয়তো দিনশেষে বাংলাদেশের প্রাপ্তিতে যোগ হতে পারতো আরো কয়েকটি উইকেট।

ডিন এলগারের দক্ষিণ আফ্রিকা দিনের প্রথম সেশনটা সাবলিলভাবে খেলে। অবশ্য দ্বিতীয় সেশনটা নিজেদের করে নেয় টাইগাররা স্বাগতিকদের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে। আলোর স্বল্পতায় প্রথম দিনের খেলা বন্ধ হয়ে যায়। দিন শেষে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ২৩৩ রান। তবে এসবের মাঝেই আলো ছড়িয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

তাসকিনের বল ড্রাইভ করে কভারে পাঠিয়েছিলেন টেম্বা বাভুমা। সিঙ্গেল নেওয়ার জন্য ডাক দিলেন সতীর্থ পিটারসেনকে। তিনিও দিলেন সাড়া। ওদিকে পয়েন্ট থেকে দৌড়ে ডাইভ দিয়ে একহাতে বল নিলেন মিরাজ। চোখের পলকে উঠে, বসে থাকা অবস্থায় থ্রো করেন স্ট্রাইক প্রান্তে। শরীরে ভারসাম্য নেই। জোর পাওয়ার কথা সামন্যই। আবার কোনাকুনি থেকে মাত্র একটি স্টাম্প দেখে থ্রো করতে হয়। মিরাজের নিশানা ছিল সুপার। বল যখন স্টাম্পে আঘাত করে তখনও ক্রিজের বাইরে পিটারসেন।

এই ফিল্ডিংয়ে তো বটেই, ডমিঙ্গোর কণ্ঠে প্রশংসা মিরাজের সবকিছু নিয়েই। গত কিছুদিনে সাদা-রঙিন দুই পোশাকেই ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর্ম করছেন মিরাজ। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ কোচ বললেন এই অলরাউন্ডারকে নিয়ে তার মুগ্ধতার কথা, ‘আমার দেখা সেরা রান আউটগুলির একটি ছিল এটি। ব্যাটে-বলে এবং ফিল্ডিংয়ে আমাদের জন্য দুর্দান্ত এক ক্রিকেটার সে। দারুণ কিছু ক্যাচ সে নিয়েছে। মাঠে তার প্রাণশক্তি ও মানসিকতা অসাধারণ।’

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দলের গুরুত্বপূর্ণ এক সদস্য হয়ে উঠেছেন মিরাজ। এবারের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ওয়ানডে সিরিজে নিয়েছেন ৬ উইকেট। সেঞ্চুরিয়নে প্রথম ওয়ানডেতে ৬১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ব্যাট হাতেও করেন ১৯ রান। জোহানেসবার্গের দ্বিতীয় ম্যাচে দলের বিপর্যয়ের মুখে খেলেন ৩৮ রানের ইনিংস।