বরিশালে সংগঠন, সাংবাদিক, পুলিশের নাম ভাঙিয়ে চলছে অনুমোদনহীন যানবাহন

রূপালী ডেস্ক।।
বরিশাল মহানগরী এলাকায় বিআরটিএ থেকে অনুমোদিত ২ হাজার ৫০০ সিএনজি ও গ্যাসচালিত অটোরিকশার পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত ১০ থেকে ১২ হাজার ইজিবাইক চলাচল করায় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। অথচ বিআরটিএর মতে বরিশাল মহানগরীতে সর্বোচ্চ ৫ হাজার বৈধ যানবাহন চলাচলযোগ্য।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়কের জন্য ইজিবাইকের ২ হাজার ৬৯০টি লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রয়েছে ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাটারিচালিত ঐ অটোরিকশার লাইসেন্স নবায়ন বন্ধ রাখে সিটি করপোরেশন। নবায়ন বন্ধ রাখা ঐ ইজিবাইকগুলোর পাশাপাশি কয়েক গুণ বেশি ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশাসহ বিআরটিএ কতৃ‌র্ক লাইসেন্সপ্রাপ্ত গ্যাসচালিত অটোরিকশা, সিএনজি ও থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্র) সহ ২০ হাজারের বেশি যানবাহন চলছে নগরীতে। অনুমোদনের চেয়ে কয়েক গুণ যানবাহন চলাচলের ফলে নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে অহরহ যানজটসহ ঘটছে নানান অপ্রীতিকর ঘটনা।

মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা অবৈধ যানবাহন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে তা বাস্তবায়িত হয় না। প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এসব অবৈধ যানবাহনে গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝে মধ্যে মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য জরিমানা কিংবা আটকের চেষ্টা করলেও ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদের কঠোর আন্দোলনের ফলে তা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়াও ট্রাফিক বিভাগের জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেতে এসব অবৈধ যানবাহন বিভিন্ন সংগঠন, সাংবাদিক, পুলিশসহ প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে চলাচল করছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৈধ ও অবৈধ এসব যানবাহন সড়কে চলাচল করার জন্য মালিক সমিতি, শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়ন, বিভিন্ন পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার করে নগরীতে চলাচল করছে। এসব গণপরিবহনের অধিকাংশ বিআরটিএর অনুমোদিত না হওয়ায় চালকরাও লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। অদক্ষ চালকের মাধ্যমে অবৈধ যানবাহনে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

বিআরটিএর বরিশাল উপপরিচালক মো. জিয়াউর রহমান বলেন, আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি বরিশাল মেট্রোপলিটনে বৈঠকে যানবাহন চলাচলে নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেননা মহানগরীতে ১০ থেকে ১২ হাজার অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের কারখানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে তা সিলগালা করে দেওয়া এবং নগরীতে এর চলাচলে নিয়ন্ত্রণের জন্য সবাই একমত পোষণ করেন।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল জেলা সভাপতি প্রফেসর শাহ সাজেদা জানান, বরিশাল নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ যানবাহন চলাচল করায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে চলাচলে।