পটুয়াখালীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

অনলাইন ডেস্ক।।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় বাড়ি ভাঙচুর, দুই ভাইকে মারধর, টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটপাট এবং গাঁজা দিয়ে এক কিশোরকে (১৭) ফাঁসানোর অভিযোগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাসহ আট জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল দ্বিতীয় আমলি আদালতে ওই কিশোরের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগেকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদ ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার প্রধান আসামি বরিশাল বিভাগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক ইশতিয়াক হোসেন। অন্য সাত জন হলেন—সহকারী উপ-পরিচালক ফারুক হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক দিপংকর মন্ডল, কার্যালয়ে কর্মরত ইমাম হোসেন, আবদুল হামিদ, খন্দকার জাফর আহম্মেদ, মো. সবুর ও হেলাল উদ্দীন।

বাদীর বরাত দিয়ে আইনজীবী মুজাহিদ ইসলাম জানান, কালিশুরি ইউনিয়নের কবিরকাঠী গ্রামে দুই ছেলে (ছোট ছেলের বয়স ১৭ বছর, বড় ছেলের ২২ বছর), স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসবাস করেন ওই মামলার বাদী। বড় ছেলে পটুয়াখালী সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগে পড়েন।

ছোট ছেলে পড়েন বাউফল সরকারি কলেজে। ফুফুর বাড়িতে ১৫ দিন বেড়ানো শেষে ২ এপ্রিল সকালে বাড়িতে এসে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি। সকাল ৯টার দিকে অজ্ঞাত কয়েকজন বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ঢুকে তাকে মারধর শুরু করেন। ঠেকাতে এলে বাড়ির লোকদেরও মারধর করতে থাকেন।এক পর্যায়ে আসবাবপত্র ভাঙচুর করে তারা।

বাড়ি নির্মাণ কাজের জন্য ব্যাংক থেকে তুলে এনে রাখা, ছাগল বিক্রি, বাজার খরচ ও মাটির ব্যাংকে জমানো প্রায় এক লাখ ৫৭ হাজার টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণ জিম্মায় নেয় হামলাকারীরা। এ সময় স্থানীয়রা এগিয়ে এলে নিজেদের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন তারা। পরে ছোট ছেলেকে আটক করে নিয়ে যায়।

মামলার বাদী জানান, থানায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, বরিশাল বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপ-পরিদর্শক ইশতিয়াক হোসেন তার ছেলের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেছেন।

তিনি দাবি করেন, এটা একটি ষড়যন্ত্র। একটি প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ করে’ ছেলেকে গাঁজা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে।

বাউফল থানা সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, খাটের নিচ থেকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা ও গাঁজা বিক্রির ৭২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক মামলায় সাক্ষী করা হয়েছে মো. সুমন (৩০) ও শ্যামল মিস্ত্রি (৩৫) নামে দুই জনকে।

এ বিষয়ে সাক্ষী সুমন জানান, ‘শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে যাই। পরে একটি কাগজে স্বাক্ষর নেয়। তবে ওই ঘর থেকে গাঁজা উদ্ধার করতে দেখেনি। আর টাকা উদ্ধার করা হয়েছে আলমারি ও শো-কেস থেকে। আমাদের কাছে বলা হয়েছিল ৭২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’

সাক্ষী শ্যামল মিস্ত্রি বলেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল বন্দর থানায়। আমি কবিরকাঠী বেড়াতে এসেছিলাম। ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তবে গাঁজা কোথা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আমি বলতে পারি না। টাকা উদ্ধার করা হয়েছে আলমারি ও শো-কেস থেকে।’

ইশতিয়াক হোসেন জানান, ‘(মাদক) মামলার এজাহারের কথাই তার কথা। নিজেদের অপরাধ ডাকতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’

পটুয়াখালী সিআইডির পুলিশ সুপার মাসুম বিল্লা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ধনের কোনও মামলা আমাদের কাছে আসেনি। মামলার কপি হাতে পেলে যথা সময়ের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়া হবে।’