আগৈলঝাড়ায় সেতুর মাঝে গর্ত হয়ে মরন ফাঁদে পরিনত

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি।।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রথখোলা-তালের বাজার সড়কের একটি সেতুর মাঝে গর্ত হয়ে মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন ওই সেতু দিয়ে শিক্ষার্থীসহ এলাকার হাজার হাজার লোকজন চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। উপজেলা এলজিইডি বিভাগের এই সেতুর সংস্কারের ব্যাপারে কোন মাথা ব্যাথা নেই অভিযোগ স্থানীয়দের।

স্থানীয় ও সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের রথখোলা-তালের বাজার- রামের বাজার সড়কের ভদ্রপাড়ার ওয়াপদা খালের উপর দীর্ঘ ২০ বছর পূর্বে একটি ঢালাই সেতু নিমার্ণ করা হয়েছিল। নির্মানের ৪-৫ পরেই ওই সেতুর বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে রড বের হয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ওই গর্তের কারনে ওই সেতু দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। গর্তের মধ্যে কাঠ দিয়ে মরটসাইকেল, ভ্যান ও ইজিবাইক চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে যাত্রীরা। ওই সেতু দিয়ে স্কুল, কলেজেরশিক্ষার্থীসহ প্রতিদিন হাজার হাজার লোকজন চলাচল করে। প্রতিদিনই রাতের অন্ধকারে ওই সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে সাধারন লোকজন ও পথচারীরা। ঝুঁকিপূর্ণ বিধ্বস্ত এই সেতুটি বিকলাবস্থার কারনে চলাচলের একদম অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে আশপাশের কয়েক গ্রামের শতশত কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাধারন লোকজন। বিকল্প কোনো যাতায়াত পথ না থাকায়, মরণফাঁদ জেনেও পার হচ্ছেন গ্রামবাসীসহ কোমলমতি শিশু-বৃদ্ধরা।

এছাড়া জমি থেকে ধান আনার জন্য কোন গাড়ি চলাচল করতে না পারায় কৃষকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই ভাঙ্গা সেতু দিয়ে পার হচ্ছেন। স্থানীয় শাহজাহান সরদার জানান, কৃষি মৌসুমে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক শত একর জমির ফসল আনা নেয়া করা হয় এই ভাঙ্গা সেতুটির উপর দিয়ে। যা কৃষকদের জন্য খুবই দু:খ-কষ্টের কারণ।

খোকন তালুকদার, রোকন ইসলাম বলেন, প্রায় বিশ বছর আগে নির্মিত এই সেতুটির ঢালাই ধসে গিয়ে রড বের হয়ে গেলেও সংস্কারের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি।

ভদ্রপাড়া গ্রামের আনিচ সরদার, জালাল সরদার জানান, সেতুটিতে মানুষ উঠলে কাপতে থাকে। অথচ সেতুটি মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কোনো মাথা ব্যথা নেই। কয়েক বছর যাবৎ শুনি সেতুটি মেরামত করা হবে, কিন্তু মেরামত কবে হবে তা কেউই বলতে পারে না।

এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার বলেন, ওই স্থানের সেতুর ব্যাপারে আমাদের প্রকল্প দেওয়া আছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই সেতুর নির্মান কাজের টেন্ডার আহবান করা হবে।