বরিশালে ইফতারের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ

রূপালী ডেস্ক।।
ইফতার পার্টি আয়োজনের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ একাধিক নেতাকর্মী এ অভিযোগ করেছেন। তবে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) বরিশাল নগরের জেলা স্কুল মাঠে বিশাল প্যান্ডেল করে মহানগর বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠান হয়। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এতে প্রধান অতিথি ছিলেন। প্যান্ডেলের নিচে কয়েকশ নেতাকর্মীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দলের একাধিক সূত্র জানায়, ইফতার আয়োজনের জন্য ৪২ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির প্রত্যেক সদস্যকে সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা চাঁদা দিতে হয়। সচ্ছলদের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে আরও বেশি।

এ ছাড়া নগরের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও মোট অঙ্কের চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। দপদপিয়া এলাকার এক ধণাঢ্য ঠিকাদারের কাছ থেকে এক লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দলের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে ওয়ার্ড কমিটির পদপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন অনেক নেতা।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুসা কাজল বলেন, ‘আমার কাছে যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুর রহমান মাকসুদ ইফতারের জন্য চাঁদা চেয়েছিলেন, আমি দেইনি।’

আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, ‘সদস্য সচিব আমার কাছে দুই হাজার টাকা চেয়েছেন। কিন্তু আমি বলেছি আপনারা আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব ইফতারের আয়োজন করবেন, আমরা কেন টাকা দেব?’

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, তার কাছে কেউ চাঁদা চাননি। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়া চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা ঠিক নয়।

চাঁদাবাজির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, ‘আমরা নিজেদের টাকায় দল পরিচালনা করি। আমাদের ভালো কাজগুলো দেখে দলের মধ্যে অনেকের হিংসা হয়। তারা অতীতে ক্ষমতায় থেকে চাঁদাবাজি করেছেন, এখন নেতৃত্বে থাকতে না পারার বেদনায় আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যাচার করছেন।’

তিনি আরও বলেন, চাঁদাবাজির অভিযোগ কেউ প্রমাণ করতে পারলে দলের নেতৃত্ব ছেড়ে দেবেন।

চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসর রহমান বলেন, ইফতার ইস্যুতে কারও কাছ থেকে টাকা নেওয়া ঠিক নয়। মহানগর বিএনপিতে এটা হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে।