ভিক্ষুকের চিৎকার চেঁচামেচিতে প্রাণে রক্ষা পেলেন গৃহবধূ

রূপালী ডেস্ক।।
চনায় সংসার থেকে বিতাড়িত করতে প্রথম স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে মুগুর দিয়ে পিটিয়ে সারা শরীর থেঁতলে দিয়েছেন স্বামী। খবর পেয়ে থানা পুলিশ হাত-পা বাঁধা অবস্থায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্ত স্বামী-সতিনকে গ্রেফতার করে কোর্টের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীরামপুর গ্রামের শাহজাহান খাঁর বিয়ে পাগল বখাটে ছেলে জামাল খাঁ (৪০) বর্তমানে তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাবার বাড়িতে পৃথক ভিটিতে ঘরসংসার ও রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নরসিংদীর বেলাবো এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে প্রথম স্ত্রী হালিমা বেগমকে (৩৫) বিয়ে করেন। এ সংসারে হালিমার এক মেয়ে ও এক ছেলেসন্তান আছে।

হালিমার সংসার জীবনের ৬ বছরের মাথায় ঢাকায় শ্রমজীবীর কাজ করার সময় নিলুফা নামের সম্পর্কে মামাতো বোনকে বিয়ে করে জামাল খাঁ। দুই তিন মাসের বেশি এ বিয়ে টেকেনি। পরবর্তীতে পাশের বাড়ির মেয়ে (তৃতীয় স্ত্রী) সোনিয়াকে (৩০) নিয়ে পালিয়ে বিয়ে করে ঢাকায় প্রায় এক বছর অবস্থানের পর গ্রামের বাড়িতে চলে আসেন।

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর শাশুড়ি রাহিমা বেগম বলেন, গ্রামের বাড়ি থেকে প্রথম স্ত্রী হালিমাকে বিতাড়িত করতে তৃতীয় স্ত্রী সোনিয়া শুরু থেকেই স্বামী জামালকে দিয়ে নানা ছলাকলায় অত্যাচার নির্যাতন করে আসছিল। একপর্যায়ে অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গেলে ছেলে-মেয়েকে নরসিংদীতে নানা-নানির কাছে রেখে গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরবে চলে যায়। ৪ বছর পরে দেশে ফেরার পর টাকার লোভে স্বামী জামাল নানাভাবে ফুসলিয়ে হালিমাকে ফিরিয়ে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন। হালিমার কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টায় প্রায়ই অমানুষিক নির্যাতন করত।

আহত গৃহবধূর জাঁ (দেবরের স্ত্রী) রূপা বেগম জানান, শনিবার দুপুরে তৃতীয় স্ত্রী সোনিয়ার ইন্ধনে তার স্বামী জামাল খাঁ তার প্রথম স্ত্রী হালিমাকে বসত ঘরের পেছনের ডোবায় ফেলে নির্দয়ভাবে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ফুলা জখম করে। একপর্যায়ে টেনেহিঁচড়ে ঘরে ঢুকিয়ে হাত-পা বেঁধে নানা কৌশলে শারীরিক ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। এ নির্যাতনের চিত্র সচক্ষে দেখে একজন ভিক্ষুক চিৎকার চেঁচামেচি করে প্রতিবেশীদের জড়ো করেন।

খবর পেয়ে দুমকি থানার ওসি আবদুস সালামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত গৃহবধূ হালিমাকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

উপজেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা পারভীন বলেন, গৃহবধূ হালিমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলা জখম, বিভিন্ন স্থানে কামড়ের দাগ রয়েছে।

এ ব্যাপারে ভিকটিম হালিমা বেগম বাদী হয়ে যৌতুক নিরোধ আইন এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দুমকি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনায় অভিযুক্ত পাষণ্ড স্বামী জামাল খাঁ ও সতিন সোনিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে রোববার কোর্টে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করেন।

দুমকি থানার ওসি আবদুস সালাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, রোববার সকালে আদালত আসামিদের জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।