লালমোহনে মাদরাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের যৌন হয়ৱানির অভিযোগ

গাজী তাহেরুল আলম লিটন, লালমোহন।।
ভোলার লালমোহন উপজেলার ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক মো. মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার দশম শ্রেণির একাধিক ছাত্রীকে তাঁর প্রাইভেট সেন্টারে যৌন হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাকসুদ আলমের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন যৌন হয়রানির শিকার দুই শিক্ষার্থী।

অভিযোগ পর্যালোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য ১০ মে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান হলেন- ওই মাদ্রাসার বায়োলজি শিক্ষক মো. জাকির হোসেন, ইংরেজি প্রভাষক মো. আমজাদ হোসেন ও সহকারী শিক্ষক মো. ফরিদুল ইসলাম।

তদন্ত কমিটিকে ২০ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা হয়নি। প্রতিবেদন জমা দিতে এখনও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান জাকির হোসেন। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক মাকসুদ আলম মাদ্রাসার পিছনে খালপাড় কাশেম খলিফার জামাতার বাসা ভাড়া নিয়ে ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন।

এ সুবাধে ওই মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রী মাকসুদ আলমের কাছে কেমিস্ট্রি ও উচ্চতর গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে যায়। এ সুযোগে শিক্ষক মাকসুদ আলম বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিকভাবে যৌন হয়রানি করে আসছে। এমনকি ওই শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক।

গত ২৪ এপ্রিল সকালে ওই শিক্ষার্থী তাঁর ক্লাসের এক সহপাঠী ছাত্রকে নিয়ে মাকসুদ আলমের কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। এসময় মাকসুদ আলম ওই ছাত্রকে কৌশলে বাজার থেকে মার্ক করা কলম (মোটা কালির কলম) কেনার জন্য এটা না ওইটা বলে ৩ বাজারে পাঠায়।

ছাত্রকে বাজারে পাঠিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন অশালীন ভঙ্গি, কথাবার্তা ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন মাকসুদ আলম। একপর্যায়ে মাকসুদ ওই শিক্ষার্থীকে ঝাপটিয়ে ধরে জানায়, তাকে তাঁর অনেক ভালো লাগে এবং শিক্ষার্থীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয়। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী আরও অভিযোগ করেন, প্রাইভেট থেকে মাদ্রাসায় গিয়ে বিষয়টি তাঁর একাধিক বান্ধবীদেরকে (সহপাঠী) জানালে ওই বান্ধবীরাও মাকসুদ আলমের এমন নির্মম যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানান। একপর্যায়ে ঘটনাটি পুরো মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ২৪ এপ্রিল এ ঘটনায় দশম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে ওই দুই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর রয়েছে।

এদিকে অভিযোগ দেয়ার ১ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও সঠিক বিচার না পেয়ে হতাশ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা জানান, অদৃশ্য কারণে তাঁরা ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনা পুরো মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে জানান, শিক্ষক মাকসুদ আলমের কাছে গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাইভেট পড়তে গেলে তিনি তাঁদের দিকে অশালীন ভঙ্গি, কথাবার্তা ও প্রায় সময় তাঁদের গায়ে হাত দিয়ে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। তাঁরা লোক লজ্জার ভয়ে এ ঘটনা কোথাও প্রকাশ করেননি। লিখিত অভিযোগ দেয়া এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, তিনি ঘটনাটি তাঁর স্ত্রীর কাছ থেকে শুনেছেন। তাঁর মেয়ে বাড়িতে গিয়ে কেঁদে কেঁদে তাঁর মাকে এ ঘটনাগুলো জানিয়েছেন। তবে অধ্যক্ষ বরাবর অভিযোগ দেয়ার পরেও কেনো অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না তা নিয়ে হতাশায় আছেন তিনি।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক মাকসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। দুই শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন নিশ্চিত করে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারেফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ হাতে পাওয়ার পর ১০ মে এ ঘটনায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যদেরকে বলা হয়েছে ২০ মে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে। তবে তাঁরা এখনও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি।

তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যাবে। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ গিয়াস উদ্দিন আহম্মেদ জানান, তিনি এ ঘটনাটি শুনেছেন। অধ্যক্ষকে বলেছেন ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে।

লালমোহন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। আজ সোমবার তিনি মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। অধ্যক্ষকে বলে এসেছেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা নিয়ে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে।