আগৈলঝাড়ায় বর্ষার শুরুতেই জমে উঠেছে নৌকা তৈরির কাজ

মারুফ মোল্লা, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)।।
বর্ষা মৌসুমে চলাচল ও পণ্য পরিবহনের জন্য বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত বিলাঞ্চলের মানুষের নির্ভরযোগ্য একমাত্র বাহন নৌকা। এ অঞ্চলের শত শত মানুষের মৎস্য শিকারের কাজেও অন্যতম ভূমিকা রাখে নৌকা।

এ বর্ষা মৌসুমে নৌকায় জাল, চাই (মাছ ধরার ফঁাদ) অথবা বড়শি নিয়ে মৎস্য শিকারে ছুটে চলেন জেলেরা। তাই প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম এলেই বেড়ে যায় চাই ও নৌকার কদর। আর এই মৌসুমে চাই ও নৌকা তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এ অঞ্চলের শত শত পরিবার।

আগৈলঝাড়া উপজেলার বারপাইকা, দুশুমি, রামানন্দেরঅঁাক, বাটরা, বাশাইল, সাহেবেরহাট, মোল্লাপাড়া, বাহাদুরপুর, ত্রিমুখি, রামশীল, সাদুলপুর, পীরের বাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় নৌকা তৈরি করা হয়। জ্যৈষ্ঠ থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত আগৈলঝাড়ার সাহেবেরহাট, বাহাদুরপুর ও পাশ্ববতর্ী কোটালীপাড়ার ঘাঘর, রামশীল হাটে বসে নৌকার হাট।

এসব অঞ্চলের মানুষের বর্ষা মৌসুমে যাতায়াতের একমাত্র বাহন হচ্ছে নৌকা। হাট-বাজার থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজে আসার জন্য তাদের নৌকার উপর নির্ভর করতে হয়। তাই বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই জমে উঠেছে নৌকার হাট। বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্থানে চলছে নৌকা বানানোর ধুম।

আগৈলঝাড়া উপজেলার অসংখ্য পরিবার নৌকা তৈরির পেশায় নিয়োজিত। নৌকা তৈরির কারিগর রমেশ অধিকারী জানান, তারা গ্রাম অঞ্চল থেকে কাঠ কিনে এনে নৌকা তৈরি করে থাকেন। চাম্বল কাঠ দিয়ে ডিঙ্গি ও ছোট আকারের পিনিশ নৌকা তৈরি করা হয়। আর রেইন্ট্রি কাঠ দিয়ে তৈরি হয় কম দামি নৌকা।

নৌকার ক্রেতা প্রবীর মধু, সঞ্জয় বালা, শুকুমার, জীবন বালা জানান, শুধু বর্ষা মৌসুমে ব্যবহারের জন্য কম দামি নৌকা বেশি বিক্রি হয়ে থাকে।