আগৈলঝাড়ায় ঘরে ঘরে বাড়ছে জ্বর, সর্দি-কাশি

আগৈলঝাড়া প্রতিনিধি।।
আবহাওয়ার পরিবর্তনসহ নানা অসচেতনতার ফলে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ঘরে ঘরে বৃদ্ধি পাচ্ছে জ্বর, সর্দি ও কাশি। যার কারনে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ বৃদ্ধরা। এখন কোন রোগী করোনায় আক্রান্ত আর কোন রোগী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত তা করোনা টেস্ট না করলে হয়তো বোঝা যাবে না।

করোনা ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ সারা দেশের মতো আগৈলঝাড়ায়ও করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২৮ জুন থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের টেস্ট গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৩৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন জানান, করোনা ভাইরাসের চতুর্থ ঢেউ সারা দেশের মতো আগৈলঝাড়ায়ও সংক্রমণ পরিস্থিতি ক্রমে অবনতি হচ্ছে। এখন ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি-কাশি দেখা দিচ্ছে। কিন্তু অনেকেই করোনা পরীক্ষা করানোর ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। এটা এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে দিতে পারে।

তিনি আরও জানান, এই উপজেলায় এপর্যন্ত ১ম ডোজের টিকা নিয়েছেন ১ লক্ষ ২১ হাজার ৩৪৩ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫৭ হাজার ৩২০ জন ও নারী ৬৪ হাজার ২৩ জন। ২য় ডোজের টিকা নিয়েছেন ১ লক্ষ ১৭ হাজার ৭২৪ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৫৪ হাজার ৫৮৮ জন ও নারী ৬৩ হাজার ১৩৬ জন। এযাবৎ বুস্টার ডোজের টিকা নিয়েছেন ৩৮ হাজার ৭৪৮ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ১৯ হাজার ১৪২ জন ও নারী ১৯ হাজার ৬০৬ জন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. বখতিয়ার আল মামুন আরও বলেন, করোনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। রোগীদের ভর্তির ক্ষেত্রে করোনা টেস্ট করা হচ্ছে নিয়মিত।

এব্যাপারে বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান বলেন, মাস্ক পরার ব্যাপারে এখন যেভাবে উদাসীনতা দেখা যাচ্ছে, সেটাও আশঙ্কার বিষয়। সামনে পবিত্র কোরবানির ঈদ। এখন গরুর বাজার গুলোয় বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম হবে। ঈদে অনেক লোক বাসে-লঞ্চে গ্রামে ফিরবে। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করা হলে পরিস্থিতি খারাপের দিকে যেতে পারে। এ জন্য সবাইকে মাস্ক পরা ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার ওপর জোর দিতে পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আর এখনও টিকা নেয়নি কিংবা একডোজ টিকা নিয়েছেন তাদের অবশ্যই দ্রুত টিকা নিতে হবে। আর ঠান্ডা, জ্বর, সর্দি, কাশি হলে অবশ্যই করোনা টেস্ট করে চিকিৎসকের পরামর্শে নিতে বলেন এই কর্মকর্তা।