মুলাদী ডাঃ ভুলু সেতুসহ সাড়ে ৩ বর্গকিলোমিটার ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলায় কোন বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় ১ হাজার ৩৭৭ ফিট বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা: আব্দুর রাজ্জাক ভুলু সেতুসহ প্রায় সাড়ে ৩ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত মুলাদী, হিজলা, মেহেন্দিগঞ্জ ও কাজিরহাট থানার হাজার হাজার মানুষ শিশু থেকে বৃদ্ধ সকল বয়সী ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। সেতুতে সকল বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় শহুরে জীবনের যে কোন পার্কের চেয়ে এটি অনেকের কাছেই আকর্ষণীয় উপভোগ্য একটি স্থান।

স্থানীয়ভাবে চিত্ত বিনোদনের কোন সুযোগ ও পরিবেশ না থাকায় বিশেষ করে শিশুদের বিনোদনের জন্য পরিবারের সদস্যরা তাদের ছেলে মেয়েদের ইচ্ছে পুরণের জন্য এক বারের জন্য হলেও উপভোগ করেন ডা: ভুলু সেতুটি।

সেতুতে উঠলে চারিদিকের বাতাসে গরম শরীরকে শীতল করে ফেলে। প্রকৃতির শোভা উপভোগ করে সকাল ও বিকেল গড়িয়ে গভীর রাত পর্যন্ত সময় কাটানোর সকল উপাদান রয়েছে এখানে। প্রকৃতির নির্মল বাতাস, খোলা আকাশে মেঘের ভেলায় আত্মহারা হয়ে ভেসে চলেছেন যে যার স্বপ্নের গন্তব্যে। ভ্রমণ পিপাসুদের সকল সুবিধা না থাকলেও আনন্দ উপভোগের কমতি থাকে না আগত ভ্রমণ পিপাসুদের। ডা: ভুলু সেতুটি কয়েক উপজেলার মানুষের এক সেতু বন্ধনের মিলন মেলা। তখন সেতুটির রূপ লাবণ্য বেড়ে যায় শতগুণে। সেতুটির উপরে উঠে পশ্চিমে তাকালে দেখা যায় তিনতলা বিশিষ্ট বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদটি দৃষ্টিনন্দন কারুকার্যময় মসজিদের দিকে তাকালেই নয়ন জুড়িয়ে যায়। পশ্চিম পার্শ্বে উত্তর দিকে রয়েছে লঞ্চঘাট। প্রতিদিন আধুনিক ও উন্নত মানের লঞ্চগুলো ঢাকার উদ্যোশে ছেড়ে যায়।

সেতুটির পূর্বে পার্শ্বে রয়েছে বিশাল বালুর মাঠ। স্থানীয় যুবসমাজ মাঠটিতে বিকেল বেলা আয়োজন করে বিনোদন দেয়ার জন্য ট্রেন ভ্রমণ, ফুটবল খেলা, চাকতি নিক্ষেপে পুরুস্কার গ্রহণ ইত্যাদি আনন্দদায়ক অনুষ্ঠান। মাঠটির একদিকে রয়েছে কাঁশবন। বনের পাশে হেঁটে বা বসে গল্প করে সারা বিকেলটা কাটিয়ে দেয় ভ্রমণ পিপাসুরা। বাতাসে যখন কাঁশবনের পাতাগুলো নড়তে থাকে তখন ভ্রমণ পিপাসুদের নয়ন শিতল হয়ে যায়। দিনদিন ভ্রমণ পিপাসুদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মাঠটিতে তিল পরিমাণ জায়গা থাকে না। ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক রয়েছে পুলিশি টহলের ব্যবস্থা। তাই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোক সমাগম থাকে লক্ষণীয়। ভ্রমণ পিপাসুদের নাস্তার জন্য রয়েছে দারুচিনি চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুডসহ নানান ধরনের ফুচকা-চটপটির দোকান। শিশুদের জন্য রয়েছে নানা রংয়ের খেলনা জিনিস।

ভ্রমণ পিপাসুরা ভ্রমণের জন্য সেতুটি বেছে নিলেও রয়েছে অনেক ঝুঁকি। ভ্রমণ পিপাসু মোঃ নাইফুর রহমান, রায়হান মল্লিক, মোঃ রাফিউর রহমান, মোঃ আহনাফ রহমান, বাবলি ও লিজা, বিথি, সুরমা, মার্জিয়া, শারমিন, সুমি বলেন, হাজার মানুষের মাঝেও সেতুটির উপর দিয়ে চলাচল করে শতশত যানবাহন। কখন কোন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যায় বলা যায় না। তাই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভ্রমণ পিপাসুদের দাবী একটি পার্কের ব্যবস্থা করা হলে নিরাপদে ভ্রমণ ও আনন্দ ভোগ করা যেত। অপর দিকে সরকারের হাজার হাজার টাকা রাজস্ব আয় হত।