চরফ্যাশনে মাদ্রাসার ছাত্রকে নির্যাতন, মাথা ন্যাড়া করলেন শিক্ষক

আমির হোসেন, চরফ্যাশন।।
চরফ্যাশন উপজেলার মাদ্রাজ চর আফজাল গ্রামে এ আজাহার আলী কওমি মাদ্রাসা শরেহ বেকায়া(একাদশ শ্রেণীর) ছাত্রকে ২দিন আটকিয়ে রেখে নির্যাতন। পরবর্তীতে মাথার চুল কর্তৃন করার অভিযোগ।

এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আহত শাহিন ছাড়া পেয়ে শনিবার পরিবার, সংবাদকর্র্মী ও থানা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসায় অনপুস্থিত থাকার অপরাধে মাদ্রাসার মোহতামিম(প্রধান) মাওঃ ইদ্রিস ও তার ভতিজা শিক্ষক মাওঃ মো ইমাম হোসেন তুলে নিয়ে মাদ্রাসার মধ্যে ২দিন আটক করে। হাতে, পিঠে, মুখে আঘাত করেন।

ওই কওমী মাদ্রাসায় লেখাপড়া করছেন দ্বাদশ শ্রেণিতে। ঈদের ছুটির পর মাদ্রাসায় না আসায় তাকে জোরপূর্ব কমান্ডো স্টালে ধরে নিয়ে যায়। বুধবার বার মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক নুরুল ইসলাম ও শাহিনকে পাঠায়।

তারা রাত ৯টায় মসজিদে শাহিনকে একা পেয়ে (প্রতিষ্ঠান প্রধান) মোহতামীম মাওঃ ইদ্রিস মাদ্রাসা নিয়ে শাহিনের হাত-পা বেঁধে ইদ্রিস ও তার ভাতিজা সহকারী শিক্ষক মাওঃ ইমাম দুজনে একত্রিত হয় এলোপাথারী মারধর করে রক্তাক্ত জখম করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। যাতে আহত শাহিন কোথাও না জানাতে পারে এজন্য মাদ্রাসার কক্ষে হাতবেঁধে আটকিয়ে রাখে।

শুক্রবার রাতে ছাড়া চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি হয়। শনিবার ৩০ জুলাই পরিবার, সংবাদকর্মী ও প্রশাসনকে জানান। তৎক্ষনে তার হাতে, পিঠে মুখে আঘাতের ব্যাপক চিহ্নের পাওয়া গেছে।

এব্যাপারে স্থানীয় বাহারুল ইসলাম বলেন, এ আজাহার আলী কওমী মাদ্রাসার মোওতাম ইদ্রিস মাওলানা একজন ভন্ড খনকার। এরা দুই ভাই ভানটানাসহ সকলপ্রকার খনকারী)ঝাড়ঁ ফুঁ দিয়ে মানুষকে প্রতারিত করেছে। মাদ্রাসার আড়ালে থেকে বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িয়ে অপকর্ম করে। এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া জরুরী।

ওই মোহতামীম ইদ্রিসের বড় ভাই মাও মোঃ কালু হুজুর ঘটনার কথা স্বীকার করে দুখ প্রকাশ করেন এবং কঠিন বিচারের আশ্বাস দিয়ে আহত শাহিনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওঃ ইমাম হোসেন বলেন, আমি চুল ছোট করতে বলেছি। মাদ্রাসার প্রধান মাওঃ ইদ্রিস তাকে আটকিয়ে মারধর করেছেন। মাদ্রাসার দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত আবু মিয়া বলেন, শাহীনকে আমার কাছে আসতে বলেন।

এব্যাপারে চরফ্যাশন থানা অফিসার ইনচাজ(ওসি) মোঃ মনির মিয়াকে আহত শাহিনের মাথা ন্যাড়া এবং গায়ে পিঠের আঘাতের চিহ্ন দেখালে তিনি অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল নোমান বলেন, ছাত্র নির্যাতনের বিষয়টি বরদাসত করা হবেনা। ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।