ইমামের বিরুদ্ধে কিশোরীকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ

মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে ১৯ বছরের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ইমামের নাম রেজাউল গাজী (২৫) । সে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের পশ্চিম মাধবখালী গ্রামের রহমান গাজীর ছেলে ।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ও অভিযুক্ত পশ্চিম মাধবখালী গ্রামের বাসিন্দা। রবিবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে ওই কিশোরী তার মামা বাড়ি যাচ্ছিল। এ সময় রেজাউল ওই কিশোরীকে রাস্তায় একা পেয়ে জোরপূর্বক নিকটবর্তী পশ্চিম মাধবখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় তুলে নিয়ে যায়। সেখানে ওই কিশোরীর ওড়না দিয়ে মুখ বেধে তাকে ধর্ষণ করে। কিশোরীকে দীর্ঘক্ষণ না পেয়ে তার বোন তাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে স্কুলের বারান্দায় গোঙ্গানির শব্দ পেয়ে সেখানে গেলে কিশোরীকে রেখে রেজাউল পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় সালিশ লতিফ বিশ্বাস, কাদের বিশ্বাস, ইদ্রিস গাজী, নুর ইসলাম মৃধা ও গিয়াস উদ্দিন কামাল বিষয়টিকে মীমাংসা করার জন্য বৈঠক করে। বৈঠকে ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ নগদ অর্থ দেয়ার প্রস্তাব করা হয়। এতে ভুক্তভোগীর পরিবার রাজি না হওয়ায় এবং অভিযুক্ত রেজাউল উপস্থিত না থাকায় কোন সুরাহা হয়নি। সালিশরা ভুক্তভোগী কিশোরীকে থানায় বা অন্য কোথাও অভিযোগ না দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে আবার বৈঠক করে বিচার করবে বলে আশ্বস্ত করে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী কিশোরীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি মামা বাড়ি যাওয়ার পথে রেজাউল আমাকে জোর করে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। আমি স্থানীয় মাতবরদের কাছে এর বিচার চাইতে গেলে তারা আমাকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয় এবং মামলা না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। আমরা গরিব বলে কি এর বিচার পাবো না! ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হয়েছে। এখন আমাকে কে বিয়ে করবে? আমি আমার ইজ্জতের বিচার স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাই।

এ ব্যাপারে মোঃ গিয়াস উদ্দিন কামাল সহ একাধিক সালিশ বৈঠকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উভয়পক্ষ আমাদের কাছে আসলে আমরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠকে বসি। এ সময় আমরা ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎকার শুনি কিন্তু অভিযুক্ত রেজাউল উপস্থিত না থাকায় কোন সুরাহা করতে পারিনি।

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার ইসলাম তালুকদার বলেন, এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। এইমাত্র আপনার মাধ্যমে শুনলাম। ঘটনা তদন্তের জন্য সরেজমিনে পুলিশ পাঠানো হবে।