বেতাগী আ. লীগ: ৭২ ওয়ার্ডে ৭২ লাখ টাকা বানিজ্যের ঘটনায় তদন্ত কমিটি

বেতাগী প্রতিনিধি, বরগুনা।।
বরগুনার বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উপজেলার পৌরসভাসহ সাতটি ইউনিয়নের মোট ৮টি ইউনিটের ৭২ টি ওয়ার্ডে সভাপতি ও সম্পাদক পদ পেতে ওয়ার্ড নেতাদের কাছ থেকে ৭২ লাখ টাকার বানিজ্যের ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগ।মঙ্গলবার রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদকের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। একই সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম পিন্টুর যে বক্তব্যের ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে ওই নেতাকেও প্রমান স্বাপেক্ষে, তথ্য উপাত্ত সহকারে সঠিক জবাব দেয়ার জন্য কারন দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।

বরগুনা জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগের সিয়ির সদস্য,বুড়ামজুমদার ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ গোলাম রব শুক্কুর মীরকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগ। তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলো বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগের ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকে বিমান কান্তি গুহু ও বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন ফয়সাল অপু।

বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম পিন্টু যুগান্তরকে বলেন,‘আমাকে উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক কারণ দর্শানোর েেয নোটিশ দেয়া হয়েছে তার আলোকে আমি সঠিক সময়ের মধ্যে রাজনৈতিকভাবে প্রমান স্বাপেক্ষে, তথ্য উপাত্ত সহকারে সঠিক সময়ের মধ্যে জবাব দিবো বলে আশাবাদী।

তদন্ত কমিটির সদস্য বেতাগী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন ফয়সাল অপু জানান,‘উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক আমাদের ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে এবং ৩ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।প্রত্যাশা করছি আমরা তদন্ত কমিটি সঠক সময়ের মধ্যে তথ্য প্রমান সহকারে সঠিকভাবে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবো।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র এবিএম গোলাম কবির যুগান্তরকে বলেন,‘কমিটিতে পদ পেতে ৭২ লাখ টাকা বানিজ্যের বিষয়ে আওয়ামীলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম পিন্টু তার বক্তব্যে যে বিষয়টি বলেছেন, তাতে উপজেলা আওয়ামীলীগ পরিবার ব্যথিত। তারই প্রেক্ষিতে উপজেলা আওয়ামীলগ কর্তৃক একটি জরুরী সভা ডেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি কর্তৃক তদন্ত করে প্রমানসহ আওয়ামীলীগের দপ্তর সেলে জমা দেয়ার জন্য সিদ্ধান্ত দেয়া হয়ছে একইসাথে আওয়ামীলীগ নেতা পিন্টুকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে এবং তাকেও একই সময়ের মধ্যে জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি আমাদের জানিয়েছেন তিনি বক্তব্যের ব্যাপারে নিজেই বিব্রতবোধ করছেন,এবং দল যদি তারা রাখা বক্তব্যে প্রশ্নবিদ্ধ কিংবা ক্ষতিগ্রস্থ হয় তবে তিনি আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী।

উল্লেখ্য, গত ৪ সেপ্টেম্বর বেতাগী সদর ইউনিয়নের আয়োজিত ত্রি- বার্ষিক সম্মেলনে বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বেতাগী উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আমিরুল ইসলাম পিন্টু বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমন কিছু তথ্য উন্মোচন করেন যা বেতাগীতে টক অব দ্যা টাউনে পরিনত হয়।সম্মেলন শেষ হওয়ার তিনদিন পর ১৪ মিনিট ১১ সেকেন্ডের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে,সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে।

শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড়।ভিডিও বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট বলেন, বিএনপির কালচার এখন আওয়ামী লীগে ঢুকেছে। শুধুমাত্র উপজেলার ৮টি ইউনিটের ৭২ টি ওয়ার্ডে আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য ৭২ লক্ষ টাকার বানিজ্য হয়েছে। কমিটিতে পদ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকার বাণিজ্য করেছেন উপজেলার অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আওয়ামীলীগ নেতা আমিরুল ইসলাম পিন্টুর বক্তব্যের পর ব্যপকভাবে সমালোচিত বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ।