বরিশালে চাঁদা দাবির ঘটনায় হামলা, তিন মামলা দায়ের

অনলাইন ডেস্ক।।
বরিশালে নগরের চাঁদমারিতে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে হামলার ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (০৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম।

তিনি জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও শহর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) এএসআই কামরুল হোসেন আহত হওয়ার ঘটনায় উপ-পরিদর্শক আবুল বাশার বাদী হয়ে ১৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া হামলায় আহত ফরিদা বেগম ও আব্দুল জলিল আকন নামে দুজন দুটি মামলা দায়ের করেছেন।

মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদিকা ফরিদা বেগম জানান, চাঁদমারি এলাকায় তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যেখানে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছেন সিদ্দিক, নুর মোহাম্মদ ও তাদের সহযোগীরা। এর প্রতিবাদ করায় বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যার পরে তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায়। সে সময় তাকেসহ ৬ জনকে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করেন সিদ্দিক, নুর মোহাম্মদ, আল আমিন, হৃদয়, রাব্বিসহ তাদের সহযোগীরা। এ ঘটনায় তিনি হামলাকারীদের মধ্যে নামধারী ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

অপরদিকে আব্দুল জলিল আকন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে পান তথ্য সংগ্রহের জন্য যাওয়া বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের শহর বিশেষ শাখার (সিটিএসবি) এক সদস্যর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এসময় তিনি ওই পুলিশ সদস্যকে বাঁচাতে এগিয়ে যান। তবে হামলাকারীরা তার ওপরই অতর্কিত হামলা চালায়। এমনকি নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে দাবি করলেও সে কথা হামলাকারীরা ভ্রুক্ষেপ করেনি বলে জানান জলিল আকন। এ ঘটনায় তিনি ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

উল্লেখ্য বৃহষ্পতিবার (০৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বরিশাল নগরের চাঁদমারী এলাকায় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, যার নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে সেই সিদ্দিক আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত আর যার ওপর হামলা হয়েছে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চাঁদমারী এলাকায় স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী কামরুজ্জামান ও সিদ্দিক গ্রুপের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, যা নিয়ে কামরুজ্জামানের লোকজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে সিদ্দিক গ্রুপের বিরুদ্ধে। এতে কামরুজ্জামান তার স্ত্রী ফরিদা বেগমসহ তাদের পক্ষের ৬ জন আহত হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এএসআই কামরুল হোসেনের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা সিদ্দিকসহ তার পক্ষের কোনো লোকজনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।