বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচন: আ. লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ৮ জন

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
আসন্ন বরগুনা জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আট জনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। শেষ দিনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ অফিসে বৃহস্পতিবার (০৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত আটটি ফরম জমা পড়েছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ অফিসের একটি সূত্র থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকারীরা হলেন- বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম -সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মোতালেব মৃধা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা , জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাড, এম মজিবুল হক কিসলু, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক মেয়র অ্যাড,মো. শাহজাহান, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাড, জিয়া উদ্দিন হিমু, সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবদুল মোতালেব মিয়া ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. জামাল হোসেন বিশ্বাস।

দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদ আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, আমি দীর্ঘ র্পাঁচ বছর বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক ছিলাম। তখন বরগুনায় আমি অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করছি। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে গত ১৯৭৫ সালে আমি দুই বছর জেল খেটেছি। আমি বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এখন পর্যন্ত আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছি। আমাকে মনোনয়ন দিলে সততার সঙ্গে কাজ করবো।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব মৃধা বলেন, সারাজীবন আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে আসছি। দলীয় পদ পদবীর জন্যে আমি কখনও কোন তদবির করিনি। আমি ১৯৭১ সালে দেশের জন্যে অনেক যুদ্ধ, সংগ্রাম ও রক্ত জড়িয়েছি।

১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি আমি অনেক নির্যাতন ও কারাবরন করেছি। দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। দুর্নিতী কখনও আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আমি বরগুনা সদর উপজেলায় পাঁচ বছর ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেছি।

তিনি আরও বলেন,আওমী রাজনীতি করতে গিয়ে আমি বারবার কারাবরণ করেছি। গত ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমি (দুই) বছর কারাবরণ করেছি। আমার বাবাও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি সততার সঙ্গে এখন পর্যন্ত আছি এবং ভবিষ্যৎও থাকবো। এখন পর্যন্ত কোনো দুর্নীতি আমাকে স্পর্শ করতে পারেনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করবেন। আমাকে মূল্যায়ন করা হলে আমি সততার সঙ্গে কাজ করবো।

আব্বাস হোসেন মন্টু মোল্লা বলেন, আমি বর্তমানে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসছি। আমি কেমন মানুষ তা বরগুনাবাসী জানে। রাজনীতিতে আমার কোনো দুর্নাম নেই। বরগুনা সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে আমি পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে মনোনয়ন দিলে সততার সঙ্গে কাজ করবো।

জেলা তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাড,এম মজিবুল হক কিসলু বলেন, আমি দীর্ঘ দিন বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত রয়েছি। ১৯৯০ সাল থেকে আমি আওমী রাজনিতী করে আসছি। অনেক বার কারাবরনও করেছি। দল যদি আমাকে মূল্যায়ন করে তাহলে আমি সততার সহিত জনগনকে পাশে নিয়ে কাজ করবো।

মনোনয়ন প্রত্যাশী ও বীর মুক্তি যোদ্ধা এ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান জানান,আমি বরগুনা পৌরসভার দু-দুবার নির্বাচিত মেয়র হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি আইন ব্যবসার পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বরগুনা জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমুখী আন্দোলন সংগ্রামে আমার একনিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি আরও জানান,আমি অত্যান্ত সুনামের সহিত বরগুনা পৌরসভার দুইবার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আমি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। বর্তমানে আমি জেলা আওয়ামী লীগের ১ নম্বর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমি যখন মেয়র ছিলাম, দুর্নীতির ছোঁয়া আমার গায়ে লাগেনি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে মাস্টারপ্ল্যান করে আমি জেলার উন্নয়ন করবো।

উল্লেখ্য,আগামী ১৭ অক্টোবর বরগুনাসহ দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)। প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসকের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৮ সেপ্টেম্বর বাছাইয়ের পর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। আগামী ১৭ অক্টোবর সকাল ৯টা থেকে ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে।