জাল নামজারী করে চরফ্যাশনে ২২ একর জমি আত্মসাতের অভিযোগ

চরফ্যাশন প্রতিনিধি, ভোলা।।
চরফ্যাশন উপজেলার আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের শিবারচর মৌজায় ভূয়া দলিল দিয়ে নামজারী সৃজন করে ২২ একর ৮৫ শতাংশ জমি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে শাহাজাহান মুন্সিগংদের বিরুদ্ধে। এই ব্যপারে জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চরফ্যাশন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সি আর ৪৩৬/২২ ,স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিকট ও চরফ্যাশন সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) নিকট ৬৯৯মেসকেইস ২১-২২ দায়ের করেছে।

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবারচর মৌজায় ৩৯৮খতিয়ানে ২৬একর ১০কুশ জমি রয়েছে। তার মধ্যে দু‘পরিবারের ওয়ারিশের হির্সা মোতাবেক ১৩একর ৫শক করে পেয়েছেন। শাহাজানগংরা যে পরিমান জমি পাবে তার থেকে বেশী পরিমান জমি বিক্রি করেছেন।

শিবারচর মৌজায় এসএ ৩৯৮ খতিয়ানে ২৬ একর ১০ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন সংখ্যালঘু সুধির রঞ্জন। মৃত্যুর আগে তার ভোগদখলীয় ওই জমি এস আলমের নিকট ২একর ৬১, ইউনুস পাটোয়ারী ২একর ৬১, আবদুর রহমান ২ একর ৬১, নজির আহমেদ মুনসি ১৬ একর ৫, আবুল হোসেন ২ একর ৬১ ও আবুল বাসার ২ একর ৬১ শতাংশ সমুদয় ওই জমি বিক্রি করে যান। বিক্রিত ওই জমি খরিদ সুত্রে মালিক হয়ে ভোগদখলে বিদ্যমান ছিলেন। দীর্ঘ সময় ভোগদখলে থাকার পর সুধির রঞ্জনের মুত্যুর পর তার চার সন্তান ওই বিক্রিত জমির মালিকানাদাবী করেন এবং খরিদা মালিকদেরকে উচ্ছেদের হুমকি দেন। জমি দখল নিয়ে বিপত্তি শুরু হলে এস আলমসহ ৬জন জমির খরিদা মালিক বাদী হয়ে ১৯৭০ সনে আদালতে দেওয়ানী মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানী শেষে বিজ্ঞ আদালত ওই মামলায় খরিদা মালিক এসআলমসহ ৬ জনের পক্ষের রায় প্রদান করেন।

বিজ্ঞ আদালতের রায়ের অনুকুলে খরিদা মালিকরা নিজেদের নামে নামজারী করে নিজেদের মধ্যে আপষপন্টনের মাধ্যমে ভোগদখল ও চাষ আবাদ করে আছিলেন।

খারিদা মালিক নজির আহম্মেদর মৃত্যুর পর তার ওয়ারিশ সাহজাহান মুনসিসহ অপর চার সন্তানের নামে বাবার ওয়ারশি ১৩ একর ৫ শতাংশ জমিসহ খরিদা অপর মালিদের ১৩ একর ৫ শতাংশ জমি ভূয়া দলিলের মাধ্যেমে নামজারী মোকদ্দমা করে নিজেদের নামে খতিয়ান সৃজন করে হাতিয়ে নেন। এতেই ক্ষান্ত হননি তারা । ওয়ারিশদের ভোগদখলীয় ১৩ একর ৫ শতাংশ ইতিপুর্বে বেচা বিক্র শুরু করেছেন। বিষয়টি নজরে আসার পর খারিদা মালিক আবুল বাসারের ওয়াররিশ তার ভ্রাতপুত্র সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে নামজারী খতিয়ান সংশোন করার জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার বারবারে আবেদন করেন। ওই আবেদন বিচারাধীন রয়েছেন।

জমির ওয়ারিশ সূত্রে মালিক মো সিরাজুল ইসলাম বলেন, শাজাহান মুন্সি, আলমগীর মুন্সি ও নাজিম মুন্সি ২০১৯সালে ৩২০৯দলীলনংয়ে ৩ একর, ১৯৮৪সালে ১৭০৫ দলিলনংয়ে ৭.৮৩ ও ১৯৯৮সালে ১৯১৭নং দলিলে ১.৯২জমি ভ‚য়া জাল দলীল দেখিয়ে নাম জারি করে বিক্রি করেছেন। ওই জমির নকল কপি উঠালে ওই শিবারচর মৌজার অস্তিস্ত খুজে পাওয়া যায়না। তা বিভিন্ন মৌজা ও অন্য দাতা গ্রহীতার নাম পাওয়াা যায়। তারা জাল জালিয়াতির দলিল দিয়ে ভ‚মি অফিসকে ভ‚ল বুঝিয়ে নামজারী করেন। ফলে আমি উক্ত নামজারি বাতিল চেয়ে সহকারী কমিশনার ভ‚মির কাছে ৬৯৯নং মিস-কেইস করেছি। তহসীলদার রিপোর্টও আমার পক্ষে এসেছে। আমি আদালতের কাছে সঠিক বিচার দাবী করছি।