কলাপাড়ায় সরকারী খাস জমি দখল করলেন স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা

এইচএম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা মহিপুর ইউনিয়নে নিজামপুর গ্রামে ৪৭ পোল্ডার নদী তীর লাগোয়া ২ একর সরকারী খাস জমি দখল করেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ছগির খান। নিজাপুর গ্রামে বেড়িবাঁধের বাইরে দলবল নিয়ে ওই জমি দখল করে সাইনবোর্ড সাটিয়ে দিয়েছেন তিনি। এসময় স্থানীয় শুটকি মাছ প্রক্রিয়াজাতকারী শ্রমিকদের হুমকি দিয়ে ওই জমি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ একাধিক জেলেদের। এছাড়া ছগির খাঁন পটুয়াখালী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পদ পাওয়ার পর এই সরকারি খাস জমি দখলে মেতে উঠে স্থানীয় আওয়ামীলীগ সহয়োগী সংগঠর নেতাদের দাবী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই যুগ ধরে শীত মৌসুমে নদী লাগোয়া নিজামপুর গ্রামে ওই জমিতে শুটকি প্রক্রিয়াজাত করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন শতাধিক মৎস্যজীবিরা। হঠাৎ করে ছগির খানের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের সন্ত্রাসী বাহিনী ওই জমিতে গিয়ে সাইনবোর্ড সাটিয়ে দেন। এসময় স্থানীয় শুটকি ব্যবসায়ীদের শুকটি শুকানো বেশ কিছু জাল ছিড়ে ফেলা হয়। ওই সাইবোর্ডে লেখা রয়েছে ক্রয় সূত্রে জমির মালিক মো. ছগির খান। নিজামুপর মৌজা, জে.এল নং-২৫, এস.এ খতিয়ান নং-৩০৪, দাগ নং-২৮,৫০। জমির পরিমান-২.০০ একর। ওই জমি সরকারী বলে দাবি স্থানীয়দের।

স্থানীয় শুটকি ব্যবসায়ী হান্নান মিয়া জানান, এ জমিটা মূলত আমাদের রেকর্ডীয় জমির পাশে। ২০ বছর যাবৎ আমরা ওই জমিতে শুটকি শুকিয়ে রোজগার করছি।
দেলোয়ার মিয়া জানান, সরকারী ১ নং খাস খতিয়ানের জমি। কিন্তু কিভাবে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা ক্রয় সূত্রে মালিক হয়েছেন সেটাই বুঝতে পারছি না।

মহিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ফেরদৌস হাওলাদার জানান, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি হওয়ার পরই জমি দখল ও সাধারন মানুষদের হুমকি ধামকি সহ নানা অপকর্ম করে আসছে। নিজাপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন জায়গাটি ১নং খাস খতিয়ানের জায়গা। ওই জায়গা গরীব জেলেরা মাছ শুকিয়ে শুটকি তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করে।
পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি ছগির খান জানান, ১৯৫২ সালে তরিবুলস্নাহ নামের এক ব্যক্তির নামে সরকার বন্দোবস্থ দিয়েছে। আমি তার কাছ থেকে জমি ক্রয় করেছি। আমি কোন সরকারী জমি দখল করিনি।

মহিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার রফিক মিয়া জানান, ওই জমি নিজামপুর মৌজার ১ নং খাস খতিয়ানের ৩,৪ ও ৫ নম্বর দাগের জমি। ওই জমি আমাদের দখলমুক্ত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শংকর চন্দ্র বৈদ্য জানান, এ বিষয়ে তহসিলদারকে ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।