ময়লার ভাগাড়ে পাওয়া নবজাতকের পাশে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট

আরিফুর রহমান, মাদারীপুর।।
মাদারীপুর পৌরসভার ময়লার ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার হওয়া নবজাতক কন্যা শিশুকে দেখতে রোববার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গেলেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ। এ সময় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কে এম আলমগীর হোসাইন, মো. সাজিদ উল হাসান চৌধুরী, সদর হাসপাতালের চিকিৎসকসহ পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মাওলানা মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, মাদারীপুর পৌরসভার ময়লার ডাস্টবিন থেকে নবজাতক উদ্ধার হওয়ার কথা শুনে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশিদ স্যার বিকেলে হাসপাতালে নবজাতককে দেখতে যান। এ সময় তিনি নবজাতকের খোঁজ খবর নেন। নবজাতক যেহেতু শিশু ওয়ার্ডের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে মধ্যে রয়েছে সেহেতু স্যার শিশুটির চিকিৎসার সকল ব্যয়ভার ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন। যদি উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় তাঁর সকল ব্যবস্থাও স্যার গ্রহণ করবেন। কোন ভালো শিক্ষিত, ভদ্র পরিবার শিশুটিকে দত্তক নিতে চায় তাহলে আদালতের কাছে আবেদন করার জন্য বলেছেন। কেউ দত্তক নেয়ার পরেও শিশুটি যাতে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে তাঁর দায়িত্বও স্যার গ্রহণ করবেন। ভবিষ্যতে সামাজিক নৈতিক অবজ্ঞয় রোধের কথা চিন্তা করে এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে জন্য শিশুটির প্রকৃত বাবা-মা কে খুঁজে বের করা এবং দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশকে নির্দেশনা প্রদান করেন।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার এসআই মো. রুবেল হাওলাদার বলেন, পৌরসভার পাশে ময়লার ডাস্টবিনে এক নবজাতক পড়ে আছে খবর পেয়ে সকালে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করি। বিকেলে নবজাতককে দেখতে সদর হাসপাতালে আসেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট স্যার এবং এ সময় স্যার আমাকে নির্দেশ প্রদান করেন কি কারনে কে বা কারা নবজাতককে ময়লার স্তুপের মধ্যে রেখে গেছে তা তদন্ত করার জন্য। কোন পরিবারের যদি শিশুটিকে দত্তক নিতে চায় তা হলে আদালতের বরাবরে আবেদন করার জন্য বলেন। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি কি কারনে শিশুটিকে ময়লার মধ্যে ফেলে দেয়া হলো।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার শিশু চিকিৎসক ডা. নাইমা ফেরদৌস শান্তা জানান, সকালে কিছু লোক নবজাতকটিকে শরীরের ময়লা কাদা-মাটি জড়ানো একটি কাপড় দিয়ে পেচিয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসলে আমরা শিশুটিকে নিবিড় পরিচর্যার জন্য শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করে নেই। শিশুটির চিকিৎসা চলছে, প্রথম যখন নিয়ে এসেছিলো তখন তার হাত-পা ঠান্ডা ছিল। বর্তমানে সে সুস্থ আছে।