বাবুগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা

বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি (বরিশাল) ।।
বাবুগঞ্জে গলায় ফাঁস দিয়ে অত্মহত্যা করেছে রিপা আক্তার(১৯) নামের বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে যেকোন এক সময় ওই ঘটনা ঘটেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রাজকর গ্রামের কাজী বাড়ি। সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করেছেন বাবুগঞ্জ থানা পুলিশ।

রিপা রাজকর গ্রামের হেমায়েত কাজীর প্রথম কন্যা। হেমায়েত কাজীর দুই কন্যা রিপা এবং নিতু। আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নিতু এ প্রতিবেদককে জানায়, তাদের মা বাবা চাকরির তাগিদে ঢাকাতে থাকেন। শুধু রিপা এবং নিতু গ্রামের বাড়িতে থাকতো। রিপা বাবুগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। নিতু বাবুগঞ্জ পাইলট বালিকা মধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ছাত্রী হওয়াতে প্রতি নিয়ত সকাল সাড়ে ৬টায় প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। সে প্রাইভেটে যাবার সময় রিপা ঘুম থেকে জেগে ভিতর দিয়ে দরজা বন্ধ করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে। নিতু সকাল সাড়ে ১১টার সময় প্রাইভেট শেষ করে এসে দেখে তখনও দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বোনকে অনেক ডাকাডাকির পরেও কোন সারা শব্দ না পেয়ে জানালার ফাক দিয়ে দেখে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে রিপার গলায় ফাঁস দেয়া। নিতু ডাকচিৎকার দিয়ে ঘরের দরজা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে বোনকে ফাঁস মুক্ত করে কিন্তু ততক্ষনে রিপা আর বেঁচে নেই। রিপার সাথে গত সাড়ে ৩ বছর যাবৎ প্রতিবেশী আসমা বেগমের ছেলে আফজালের সাথে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল যা আফজালের মা এবং মামারা মেনে নিতে পারছিল না। ২০ ডিসেম্বর প্রেমিক আফজাল ও তার মা আসমা বেগম রিপাকে ডেকে নিয়ে কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে শারীরিক নির্যাতন করেছিলেন। আর নির্যাতনের তৃতীয় দিনে রিপার আত্মহত্যা। আফজালের গ্রামের বাড়ি মুলাদী উপজেলার রেইনট্রিতলা নামক এলাকায়। বাবা না থাকায় সে মা এবং বোনকে নিয়ে মামা বাড়ি থাকে।

এ ব্যপারে বাবুগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরিশাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এঘটনায় রিপার অভিভাবক যদি অভিযোগ দায়ের করেন তবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।