কলাপাড়ায় চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

এইচ এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতালে ডা. জে এইচ খান লেলীন এর অবহেলায় আইনজীবীর সহকারী মো. স্বপন সিকদার (৩০) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১ টায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি অ্যাডভোকেট নুরজামান শিকদারের সহকারী ও নীলগঞ্জ ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের মোঃ মাকছুদুর রহমান সিকদারের ছেলে।

এ ঘটনায় মৃত্যু স্বপন সিকদারের পিতা মাকছুদুর রহমান সিকদার কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদারের বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মাকছুদুর রহমান সিকদার অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমার পুত্র মোঃ স্বপন সিকদার শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে শারীরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে, বুধবার সকাল অনুমান ১০ টায় আমার পুত্র স্বপন সিকদারকে চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া হাসপাতালে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত ডা. জে এইচ খান লেলীনকে দেখাইলে, স্বপন সিকদারকে গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় হাসপাতালে পরিক্ষা নিরিক্ষার যন্ত্রপাতি থাকা স্বত্তেও জরুরী বিভাগ থেকে ডা. জে এইচ খান লেলীন তার মালিকানা ডায়গনিষ্টিক সেন্টারে পরীক্ষা নিরিক্ষার জন্য পাঠান। আমি আমার পুত্র স্বপন সিকদারকে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে রিপোর্টসহ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি নেওয়ার জন্য বললে, ডাক্তার জে এইচ লেলীন আমার পুত্র স্বপন সিকদারকে হাসপাতালে ভর্তি না করে কালক্ষেপন করে হাসপাতাল বেডে ফেলিয়ে রাখে। ডাক্তার এবং কর্মচারী নার্স গণ দায়িত্ব কর্তব্য অবহেলা করে আমার পুত্র স্বপন সিকদারকে অক্সিজেন না দেয়া মৃত্যুর কোলে ধাবিত করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আমার পুত্র স্বপন সিকদার জীবিতাবস্থায় ডাক্তার ও নার্সদেরকে বাবা মা বলিয়া অনুরোধ বিনয় করে অক্সিজেন লাগানোর কথা বললেও ডাক্তার সাহের এবং নার্সগণ অক্সিজেন না লাগানো ও দায়িত্বেকে অবহেলা করে আমার পত্র স্বপনের মৃত্যু ঘটায়। নার্সগন অক্সিজেন মাস্কটি খুলে দেয়। এরপর ছটফট করতে করতে আমার ছেলে মারা যায়। আমি স্বপনের মৃত্যু বিচার চাই।। এর আগেও ডা. জে এইচ খান লেলীন’র অবহেলায় কয়েকজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, এতে নিশ্চুপ স্বাস্থ্য বিভাগ। তাকে একবার এ হাসপাতাল থেকে অন্য যায়গা বদলী করা হলে তিনি আবার ক্ষমতার দাপটে আবার কলাপাড়া হাসপাতালে চলে আসে।

হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জে এইচ খান লেলীন জানান, রোগী দেখে তার প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দিয়েছি, এতে কোন অবহেলা ছিলো না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. চিন্ময় হাওলাদার জানান, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।