পর্যটকের পদভারে মুখরিত কুয়াকাটা সৈকতে

কাজী সাঈদ, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)॥
শনিবার শেষ বিকালে শীতের হালকা কুয়াশায় পশ্চিমাকাশে ডুবে গেছে সূর্য। ক্যালেন্ডারের পাতা থেকে বিদায় নিছে ২০২২ সাল। স্মৃতি হয়ে গেছে ৩৬৫ দিন, জানুযারি থেকে ডিসেম্বর ১২ টি মাস, ২০২২ সাল। সফলতা-ব্যর্থতার হিসাব ভুলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা সকলের। বিদায় বেদনার মাঝে প্রভাতে পূর্বাকাশে নতুন সূর্য ওঠার প্রতীক্ষা। হবে ২০২৩ সালের শুভ সূচনা। ৩১ ডিসেম্বর রাতে ২০২২ সালকে স্বাগত জানাতে পালন করা হবে থার্টি ফার্স্ট নাইট। নাইটটি উদযাপন উপলক্ষে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে নেমেছে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক।

পর্যটন নগরী সাগরকন্যা কুয়াকাটায় শীতের হিমেল গোধুলী লগ্নে বছরের শেষ সূর্যাস্তকে বিদায় আর নতুন বছরের প্রভাতের সূর্যোদয়কে স্বাগত জানিয়েছে হাজার হাজার পর্যটক। প্রতি বছরের ন্যায় এবছরও পর্যটকদের এমন ভীড়ে মুখরিত কুয়কাটা সৈকতসহ সকল দর্শনীয় স্থান। খালি নেই হোটেল-মোটেল-কটেজের কক্ষ। পর্যটকদের আতিথেয়তা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছে পর্যটন ব্যবসায়ী ও টুরিস্ট পুলিশ।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভুমি সাগরকন্যা কুয়াকাটা। মনোরম নৈসর্গিক দৃশ্যের হাতছানি ভ্রমণ বিলাসী মানুষকে বারবার টেনে আনে সমুদ্রের কাছে। প্রতিবছর শীতের আগমনে পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়কাটা। বিজয় দিবস, বড়দিন, ইংরেজী নববর্ষের ছুটির আনন্দ উপভোগ করতে দেশী-বিদেশী প্রকৃতি আর সমুদ্রপ্রেমী মানুষের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে সাগরকন্যার দীর্ঘ বেলাভূমি। পুরানো বছরকে বিদায় আর ইংরেজী নতুন বছরকে বরণে পর্যটকের পদচারণায় এখন মুখরিত কুয়কাটা সমুদ্র সৈকত।

সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে ভোরের সূর্যোদয় আর গোধূলি বেলার সূর্যাস্ত দেখে বিমোহিত পর্যটকরা। দর্শনীয় স্থানসহ পর্যটনমুখী ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভীড়। তবে হোটেল-মেটেল-কটেজের কক্ষ খালি না পেয়ে অনেকেই আশ্রয় নিতে হয়েছে সাত-আট কিলোমিটার দুরের আবাসিক হোটেলে এবং বাসা-বাড়ীতে। আর এসুযোগ কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের কাছ থেকে অনেকেই হাতিয়ে নিয়েছেন মোটা অংকের ভাড়া। তবে আবাসিক সংকট, অতিরিক্তি ভাড়া আর মূল্য রাখা নিয়ে অনেকের অসন্তোষ থাকলেও কুয়কাটার নিরাপত্তা আর আতিথেতায় ম্গ্ধু পর্যটক। এবার কুয়াকাটায় অগত পর্যটকদের বাড়তি বিনোদনে যোগ হয়েছে প্রায় পাঁচ হাজার একর আয়তন নিয়ে বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলে জেগে ওঠা চর বিজয় এবং সুন্দরবনের পূর্বাংশ ফাতরার বনে নৌ-ভ্রমণ।
নড়াইল থেকে ঘুরছে এসেছেন হামিদুল নিয়াজ ও ফাতেমাতুজ জহুরা দম্পত্তি। তারা বলেন, এই প্রথম কুয়াকাটায় এসেছি। এখানকার পরিবেশ ও আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছি। ২০২২ সালের শেষ সূর্যাস্ত দেখলাম। আগামীকাল (আজ রবিবার) ২০২৩ সালের নতুন সূর্যোদয় দেখার আশায় আছি। এবারের ভ্রমণ বেশ ভালই কাটলো। সময় পেলে আবার আসবো।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম বলেন, বর্ষবরণ উপলক্ষে কুয়াকাটায় অনেক পর্যটক এসেছে। বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল কক্ষ বুকিং রয়েছে। ডিসেম্বর জুড়ে ব্যাপক পর্যটকের সমাগম ছিলো। ফলে ব্যবসায়ীরা করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করছে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আঃ মোতালেব শরীফ বলেন, থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন উলক্ষে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। আবাসিক হোটেলগুলোতে কোন কক্ষ খালি নেই।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল খালেক বলেন, ডিসেম্বর জুড়ে কুয়াকাটায় পর্যটকদের চাপ ছিলো। তাই সার্বিকভাবে আমরাও তৎপর ছিলাম। পর্যটকরা কোনোভাবে যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।