দুইমাসেও সন্ধান মেলেনি গৃহবধূ লামিয়ার, বাড়িতে শোকের মাতম

নাজিরপুর প্রতিনিধি, পিরোজপুর।।
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দক্ষিন চিথলিয়া গ্রামের গৃহবধূ লামিয়া আক্তার (১৮) গত ০৬/১১/২০২২ তারিখ নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর সম্ভাব সকল স্থানে খোজকরে না পেয়ে নাজিরপুর থানায় জিডি করেন ভিক্টিমের বাবা নজরুল ইসলাম। নম্বর ২৮৬,তারিখ ০৭/১২/২০২২। জিডির পরে তদন্তে নামে থানা পুলিশ। পুলিশ তদন্ত শুরু করার পূর্বে ই ভিক্টিমের স্বামী, শশুর,শাশুড়ি সহ সবাই বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলে ও ভিক্টিমকে উদ্ধার করতে না পারায় ভিক্টিমের মা রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে ৭জনকে আসামী করে ২৫/১২/২০২২তারিখ নাজিরপুর থানায় মামলা করেন।মামলা নম্বর ১০/২০২২।

ঘটনাস্থল ঘুরে এলাকাবাসী এবং ভিক্টিমের মা রাজিয়া সুলতানার সাথে কথা বলে জানাগেছে, ভিক্টিম লামিয়া আক্তার(১৮) এবং ১নং আসামী তরিকুল খান(২২)এর সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক ছিল।যাহা তরিকুলের বাবা মিজান খান মেনে নেয়নি। একপর্যায় এলাকাবাসির চাপের মুখে এবং তরিকুল খানের পিতা মিজান খানের সম্মতি ব্যাতিত ৩০/০৫/২০২২তারিখ ২লাখ টাকা মহারানা ধার্য করিয়া ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়। পিতা-মাতার সম্মতি ছাড়া বিয়ে করার কারনে ভিক্টিম লামিয়া কে নিয়ে তরিকুল শশুর বাড়িতে বসবাসরতছিল। দীর্ঘসময় তরিকুল শশুর বাড়িতে থাকায় তরিকুলের শাশুড়ি লামিয়া কে সামাজিক ভাবে তার বাড়িতে তুলিয়া নিবার জন্য বলে। পিতা-মাতার সম্মতি ছাড়া তরিকুল তুলিয়া নিতে রাজি না হয়ে বরং ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী লামিয়ার গায়ে হাত তোলে। ০৫/১১/২০২২ তারিখ পুনরায় তরিকুল স্ত্রী লামিয়াকে মারধোর করে এমনকি স্ত্রী লামিয়া কে তালাক দিবার হুমকি দেয়। ঐদিন রাতে গৃহবধূ লামিয়ার চাচাতো ভাই এবং তার শশুর মিজান খানের মধ্যে এ বিষয়ে হাতাহাতি হয়। তাতে মিজান খান ক্ষিপ্ত হয়ে বলে আমার যত টাকা প্রয়োজন হয় খরচ করবো তবু লামিয়া কে পুত্রবধূ হিসাবে মানিয়া নিব না। পরদিন ০৬/১১/২০২২ গৃহবধূ লামিয়া নিখোঁজ হয়।লামিয়া কে খুঁজে না পেয়ে ভিক্টিমের মা তরিকুলের কাছে জানতে চাইলে তরিকুল বলে আপনার মেয়ে ঢাকা চলেগেছে।

এব্যাপারে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)জনাব হুমায়ুন কবির বলেন,লামিয়া আক্তার নামে এক গৃহবধু অপহরনের অভিযোগে একটি অপহরন মামলা রুজু হয়েছে। মামলাটি অধিকতর গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মামলার এজাহার নামিয়ো এক আসামী ভিক্টিমের চাচাশশুর নেজাম খান(৪৫)কে আটক করতে সক্ষম হই এবং তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ভিক্টিম কে উদ্ধার করতে সক্ষম হলে আসল রহস্য জানাযাবে।