জলবায়ু সুরক্ষা অপরাধ নয়: গ্রেটা থুনবার্গ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
জলবায়ু সুরক্ষা কোনো অপরাধ নয়। সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ তাঁর এক টুইটে এ কথা বলেছেন। কিছু সময়ের জন্য জার্মানির পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর ছাড়া পেয়ে তিনি এ টুইট করেন। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) পশ্চিম জার্মানির একটি কয়লাখনিবিরোধী বিক্ষোভ থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেয় দেশটির পুলিশ। তবে আটকের সময়েই পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, গ্রেটাকে গ্রেপ্তার করা হবে না। গতকাল বুধবার থেকে গ্রেটা আবারও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।

গ্রেটা টুইট করে বলেন, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) আমি একটি দলের অংশ ছিলাম, যাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে জার্মানিতে একটি কয়লাখনির সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিল। এরপর পুলিশ আমাদের তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে আটক করে নিয়ে যায়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে আবার ছেড়ে দেয়।’

গ্রেটা খনির সম্প্রসারণকে বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জার্মানি বিশ্বের অন্যতম বড় দূষণকারী।

জার্মান পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেটা থুনবার্গকে পরিচয়পত্র (আইডি) যাচাইয়ের পরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও নিশ্চয়তা দেওয়া হয় যে গ্রেটার সঙ্গে আটক অন্য ব্যক্তিদেরও ব্যক্তিগত পরিচয়পত্র যাচাই শেষে কোনো ধরনের অভিযোগ না দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পুলিশের তিন সদস্য গ্রেটাকে অনেকটা কোলে করে নিয়ে যাচ্ছেন।

পশ্চিম জার্মানির লুয়েতজারাত গ্রামে কয়লাখনি সম্প্রসারণে কাজ চলছে। এতে গ্রামটি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে দাবি করে আসছেন পরিবেশ ও মানবাধিকারকর্মীরা। এর অংশ হিসেবে সেখানে প্রতিবাদ কর্মসূচি চলমান। তেমনই একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন গ্রেটা। আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা পোড়ানোয় গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমাতে জার্মানির প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা হবে। দেশটি ২০৩০ সালের মধ্যে খনিসমৃদ্ধ নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জাতীয়ভাবে এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৩৮ সাল।

কয়লার প্রকরণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নোংরা কয়লা হলো লিগনাইট। লুয়েতজারাত গ্রামে এ কয়লাই বছরে পোড়ানো হয় আড়াই কোটি টন। গ্রামটি বর্তমানে জার্মান বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি আরডব্লিউইয়ের মালিকানাধীন। ধারণা করা হচ্ছে, বাসিন্দারা গ্রাম ত্যাগের পরপরই লিগনাইট উত্তোলনের জন্য এলাকাটি ধ্বংস করা হবে। আরডব্লিউই বলছে, চলতি শীতের শুরুতেই তাদের এই গ্রামের মাটির নিচ থেকে কয়লা উত্তোলন করা দরকার।

এদিকে আন্দোলনকারীদের এই বিক্ষোভের সঙ্গে জার্মানির জলবায়ুনীতি নিয়ে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসছে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সমস্যার কারণে জার্মানি তাদের জলবায়ু লক্ষ্য অবহেলা করে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে।