নকশা না মেনে খাল খনন: আদালতের স্থিতি অবস্থার আদেশ

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনার বামনায় প্রকৃত নকশা অনুযায়ী খাল খনন কাজ না করায় উপজেলা সদরের কলাগাছিয়া গ্রামের স্লুইজ গেট থেকে পশ্চিম সফিপুর গ্রাম হয়ে সোনাখালী খাল পর্যন্ত খালটির খনন কাজ সোমবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরগুনা সহকারী জজ আদালত স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন।
বরগুনার বামনা উপজেলার পশ্চিম সফিপুর গ্রামের মো. নেছার উদ্দিন গং খালটি খনন কাজ বন্ধের জন্য সোমবার সকালে বরগুনা সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার দেওয়ানী মামলা নম্বর ০৯/২০২৩, তারিখ-০৬.০২.২০২৩ইং।

মামলায় বিবাদীরা হলেন (১) এলজিইডি’র বরগুনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, (২) বামনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার, (৩) এলজিইডির বামনা উপজেলা প্রকৌশলী, (৪) ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সিকদার ট্রেডার্স এর প্রোপ্রাইটর মোসাঃ রুনু বেগম, (৫) মোকাবেলার বিবাদী বরগুনা জেলা প্রশাসক।
৬ ফেব্রুয়ারি মামলার শুনানী শেষে বরগুনার বামনা সহকারী জজ আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আলতাফ মাহমুদ খালটি খনন কাজ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ এবং কারন দর্শানোর নোটিশ দেন।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরগুনা থেকে আইপিসিপি প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে ২ হাজার ৭ শত ৪ মিটার দীর্ঘ কলাগাছিয়া-বামনা খালটি পুনঃখননের জন্য ৩৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়ে মেসার্স শিকদার ট্রেডার্স নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি খালের পূর্ব প্রান্ত কলাগাছিয়া গ্রামের খাদ্য গুদাম এর উত্তর প্রান্ত স্লুইজ গেট থেকে তাদের খনন কাজ শুরু করেন।

মামলায় সূত্রে জানা গেছে, খালের প্রকৃত নকশা অনুয়ায়ী তারা খালটি খনন না করায় ওই গ্রামে বসবাসরত বহু অসহায় ও গরীব পরিবারের মালিকানাধীন সামান্য জমিটুকু বর্তমানে খালে চলে যাচ্ছেন।

জানাগেছে, যে খালটি খনন করা হচ্ছে সেটির জন্য একই অর্থ বছরে ভাঙ্গন রোধে পাইলিং করেন উপজেলা প্রকৌশলী অফিস।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খালটি খনন এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক নির্মিত খালের দুই পাশের ৩ কিলোমিটার কার্পেটিং সড়ক, ১ কিলোমিটার আর সিসি সড়ক, ২ কিলোমিটার ইট সলিং সড়ক খালের মধ্যে চলে যাবে। এছাড়াও জাইকা প্রকল্প কর্তৃক সদ্য নির্মিত ঢাকা-বামনা মহাসড়ক সংলগ্ন যাত্রী ছাউনী বিলীন হয়ে যাবে এবং মহাসড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ব্যাপারে মামলার বাদী মো. নেছার উদ্দিন বলেন. খালের এক প্রান্ত ভেঙ্গে অন্য প্রান্ত ভড়াট হয়েছে। বর্তমানে যেখানে খালের পানি প্রবাহ রয়েছে সেটা পূর্বের প্রকৃত খাল নয়। তাই সরকারী খালের নকশা অনুযায়ী খাল খনন করার জন্য আদালতের দারস্থ হয়েছি। আশা করি আদালতের মাধ্যমে বিষয়টির সুরহা হবে।

বামনা উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, খাল খনন কাজে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখার আদেশ হয়েছে কিনা এখনো কোন কাগজ আমরা হাতে পাইনি। কাগজ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।