মঠবাড়িয়ায় আ.লীগ অফিস ভাংচুর মামলায় বিএনপির ১৮ নেতাকর্মী কারাগারে

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি, পিরোজপুর।।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আওয়ামীলীগ অফিস ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরক ঘটনার অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় উপজেলা ও পৌর বিএনপির ১৮ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে নেতাকর্মীরা পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন দুলাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো নেতা-কর্মীরা হলেন- পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির মল্লিক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব তাহসিন জামান রুমেল, যুগ্ম আহবায়ক রিপন মুন্সী, আবু হানিফ হাওলাদার, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আবু মাস্টার, যুবদল নেতা শাহীন রেজা, মাইনুল ইসলাম, ওয়ালিদ লস্কর, রিয়াজুল হক, আবুল বাশার রিয়াজ, বেল্লাল খান, সজিব, রাসেল জমাদ্দার, শাহীন খান, চাঁন বাদশা, রুম্মান, হাবিব বেপারী, মনির হোসেন।

জানা গেছে, আওয়ামীলীগ অফিস ভাংচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি মো. আবুল কালাম মোল্লা বাদী হয়ে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর রাতে পৌর বিএনপি’র সাবেক সভাপতি কে,এম হুমায়ুন কবিরসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ১০২ জনকে নামীয় এবং ৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্যনিয়ন্ত্রণ আইনে এ মামলা করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৪ ডিসেম্বর শনিবার দিনগত গভীর রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা শেষ করে আবুল কালাম মোল্লা ও অন্যান্য দলীয় নেতা-কর্মীরা বাসায় যাওয়ার পথে বিএনপি ও তাঁর সহযোগি সংগঠনের দেড় শতাধিক নেতা-কর্মী লোহার রড, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে পৌর শহরের ব্যাংক পাড়াস্থ আওয়ামীলীগ অফিসের সম্মুখে এসে ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এতে যুবলীগ অফিসের টিনের বেড়া ও আওয়ামীলীগ অফিসের জানালার গ্লাসে ব্যাপক ক্ষতি হয়। পরে আসামিরা আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশ্যে অফিসে ককটেল বোমা নিক্ষেপ করে। এ মামলায় আসামীর উচ্চ আদালতের জামিনে ছিলেন।

এ ব্যাপারে মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন দুলাল বলেন, মিথ্যা ও গায়েবী মামলা দিয়ে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের অহেতুক হয়রানী করা হচ্ছে। এ মামলা দিয়ে মঠবাড়িয়া বিএনপিকে দুর্বল করা যাবেনা বরং আরো শক্তিশালী হবে।

পিরোজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এর পিপি এডভোটেক মোঃ আলাউদ্দিন খান বলেন, উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষ হলে কিছু আসামী নিম্ন আদালতে জামিনের প্রার্থণা করেন। বিজ্ঞ বিচারক শুণানী শেষে ১৮ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।