স্বরূপকাঠিতে একজন কর্মচারী দিয়ে চলছে বন বিভাগের কার্যক্রম

স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি, পিরোজপুর।।
স্বরূপকাঠিতে একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী দিয়ে চলছে উপজেলা বন বিভাগের কার্যক্রম। বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপরে পড়া, উন্নয়ন কাজের কারনে অপসারন ও অসৎ উদ্দেশ্যে কাটা গাছ জব্দ করার পরে স্থানীয়দের জিম্মায় দেয়া হয়। জিম্মায় দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকার সরকারি গাছ বছরের পর বছর পড়ে থেকে নষ্ট অথবা বেহাত হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে জিম্মায় থাকা কিছু গাছ নিলামে বিক্রি করা হলেও সরকার আশানোরুপ রাজস্ব পাচ্ছে না। এ ছাড়াও কোটি কোটি টাকার গাছের রক্ষণা বেক্ষনকারী প্রতিষ্ঠান সামাজিক বন বিভাগের দাপ্তরিক কাজ চলছে একটি জরাজীর্ণ ভবনে।

৮০ দশকে নির্মান করা দুইরুম বিশিষ্ট টিনসেট অফিস ঘরের ওপরের চালার বেশীরভাগ টিন ঝড়ে উড়িয়ে নিয়ে গেছে। কোনো রকম ছাপড়া দিয়ে একটি রুমে বসবাসসহ প্রাথমিক দাপ্তরিক কাজ সারছেন মজিবর রহমান নামের একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী । উপজেলা বন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন পিরোজপুরে বসবাসরত রেঞ্জ কর্মকর্তা। বিশেষ কোনো কাজ থাকলে অথবা উপজেলা পরিষদের মিটিং হলে তিনি স্বরূপকাঠিতে আসেন্ মাত্র। সাম্প্রতিক সময় ছৈলাবুনিয়াসহ কয়েকটি স্থানে অবৈধভাবে কিছু জব্দ করা গাছ এবং উন্নয়ন কাজের কারনে অপসারনকৃত গাছ বিভিন্ন স্থানে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেলেও তা নিলামের উদ্যোগ নিচ্ছে না বন বিভাগ। ১০-১৫ বছরের পুরোনো জব্দ গাছও অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে।

সরেজমিন জানাগেছে ৮০ দশক থেকে সামাজিক বনায়নের কাজ শুরু হলে এ উপজেলার দুই শতাধিক গ্রামীন সড়কে বিভিন্ন প্রজাতির হাজার হাজার গাছের চারা রোপন করে বন বিভাগ। স্থানীয় উপকারভোগী জনগণের অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বন বিভাগের কর্মচারীরা এসব গাছ রক্ষণবেক্ষণ ও তদারকি করে আসছে। গত দুই বছরেরও বেশী সময় ধরে এ উপজেলায় এসব গাছের তদারকিসহ গাছ অপসারন ও অবৈধভাবে কাটা গাছ জব্দ করাসহ প্রাথমিক কাজ দেখাশুনা করছেন মাত্র একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী । একটি জরাজীর্ণ ভবনেই বসবাস করছেন ওই কর্মচারী। ঝড় বৃষ্টিতে সেখানে বসবাস করা একেবারেই কষ্টসাধ্য ব্যাপার। কোটি কোটি টাকার গাছ রক্ষনা বেক্ষন এবং বিক্রির দায়িত্বে থাকা বন বিভাগের অফিসের এদুরবস্থা নিরসনে কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছেন না।

এসব বিষয় উপজেলা বন কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পিরোজপুরের রেঞ্জ কর্মকর্তা নির্মল চন্দ্র দত্ত বলেন, তাদের ডিপার্টমেন্টে জনবল সংকটের কারনে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তিনি মাঝেমধ্যে স্বরূপকাঠিতে আসলেও অফিসটির ভঙ্গুর দশার কারনে সেখানে থাকা সম্ভব হয় না। জব্দ করা গাছ নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা থাকলেও বিচ্ছিন্নভাবে থাকার কারনে কিছু কিছু নষ্ট বা বেহাত হয় বলে স্বীকার করেন রেঞ্জ কর্মকর্তা নির্মল দত্ত।