পাথরঘাটায় বিএনপির ১০ দফা কর্মসুচি শেষে হামলা, ৫ ছাত্রদল নেতা আহত

পাথরঘাটা প্রতিনিধি (বরগুনা)।।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল ও বিদ্যুৎ, গ্যাস, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি আওয়ামী লীগ সরকারের লাগামহীন দুর্নীতিবন্দসহ ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে সেখান থেকে ফেরার পরে উপজেলা বিএনপির আহবায়কের আবাসিক বোডিংএ গেলে সেখানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালানো অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় ছাত্রদলের ৫ নেতা আহত হয়েছে।

শনিবার (০৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে উপজেলার পাথরঘাটা সদর রোডের সোনালী আবাসিক বোডিং এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

এর আগে দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দু’ঘন্টা এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। এতে দুই শতাধিক দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আহতরা হলেন, পাথরঘাটা কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক জয়নাল আবেদীন, পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি মাহাদী খান মুসা, সদর ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা রাসেল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা শান্ত ও রাজিব সরকার।

সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সভাপতি চৌধুরী মো. ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন, বরগুনা জেলা বিএনপির সদস্য এডভোকেট সগির হোসেন লিওন, এসময় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম কামরুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সভাপতি হারুনুর রশিদ হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক এম ইসমাঈল শিকদারসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এসময় তাঁরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলসহ বিদ্যুৎ, গ্যাস নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের দাম কমানোর দাবি জানান।

চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, আমরা কেন্দ্রঘোষিত শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষ করে আমার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সোনালী আবাসিক বোডিং আসলে সেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হামলা চালায়। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করে এবং ছাত্রদলের ৫ নেতাকর্মী আহত হয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে তারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অ্যাডভোকেট সগীর হোসেন জানান, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা ছিল শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার। সে অনুযায়ী শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করেছি। উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক যেখানে সময় কাটান এবং থাকেন সেখানে গিয়ে এরকমের হামলা করা হতে পারে তা আমার জানা ছিল না। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়ালিদ মক্কী জানান, তাদের সমাবেশ শান্তিপূর্ণভাবেই পালন করেছে, আমরা কোনো বাধা দেযইনি। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে কে বা কারা হামলা করেছে তা আমরা জানিনা। তারা সব সময়ই ছাত্রলীগের উপর দোষ চাপিয়ে দেন।

পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলম হাওলাদার জানান, এরকম একটি ঘটনার কথা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।