সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখতে না পাবার আক্ষেপ দশ হাজার পর্যটকের

কাজী সাঈদ, কুয়াকাটা॥
শুক্রবার শেষ বিকালে সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখতে কুয়াকাটা সৈকতে নামেন অত্যন্ত দশ হাজার ভ্রমণপিপাসু পর্যটক। পশ্চিমাকাশে সূর্যের পানে তাকিয়ে ছিলেন তারা। সূর্যাস্ত দেখার অপেক্ষায় সৈকতে বিভিন্ন পয়েন্টে ছুটাছুটি করছেন তারা। আকাশের পূর্ব-দক্ষিণ কোণে নীলিমা থাকলেও উত্তর-পশ্চিম কোণে ভাসছিলো কয়েক খ- সাদা মেঘ। অনেকটা শরতের আকাশের মতো। যার কারণে সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য দেখতে না পাবার আক্ষেপ নিয়েই গন্তব্যের ফিরতে হয়েছে আগত পর্যটকদের। তবে সন্ধ্যাকালিন পূর্বাকাশে চাদ ওঠার দৃশ্য দেখেছেন অনেকে।

শুক্রবার শেষ বিকালে সৈকতে কথা হয় সানজিদা আক্তার পারুল নামের মধ্যবয়সী এক নারী পর্যটকের সাথে। তিনি বলেন, ‘তিনদিনের ছুটি পেয়ে এই প্রথম পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখার প্রবল ইচ্ছা ছিলো। সকালে সূর্যোদয় দেখেছি, বিকালে সূর্যাস্ত দেখতে দাড়িয়ে ছিলাম। মেঘের কারণে তা আর হলো না। সূর্যাস্তের দৃশ্য না দেখেই সকালে ফিরে যাচ্ছি। আবার সময় পেলে চলে আসবো।’

আগত পর্যটকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বুদ্ধ পূর্ণিমা ও সাপ্তাহিক তিনদিনের টানা ছুটি পেয়ে কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসেন পর্যটকরা। আগতদের মধ্যে অনেকেই এই প্রথম এসেছেন কুয়াকাটায়। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য দেখার প্রবল আকাঙ্খা তাদের। আগত পর্যটকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার যারা এসেছেন তারা শুক্রবার প্রভাতে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখেছেন। সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখে কারো কারো রাতেই ফিরে যাবার শিডিউল। অনেকে গন্তব্যে ফিরবেন সকালে। আর শুক্রবার যারা এসেছেন তারা বিকাশে সূর্যাস্তের দৃশ্য এবং শনিবার সকালে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখে বিকালের মধ্যে গাড়িতে উঠবেন। এ কারণে শুক্রবারের সূর্যাস্ত ছিলো তাদের জন্য এক ধরণের গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারিত শিডিউল। কিন্তু পশ্চিমাকাশে খ- খ- সাদা মেঘ থাকায় এবারের ছুটিতে বেড়াতে এসে সূর্যাস্তের দৃশ্য না দেখেই গন্তব্যে ফিরতে হয়েছে অত্যন্ত দশ হাজার পর্যটকে।

সৈকতের বালিয়াড়িতে দাড়িয়ে কথা হয় দ্বীপক কুমার ঘয়ালি নামের এক পর্যটকের সাথে। তিনি চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে বেড়াতে এসেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এসে পৌছান কুয়াকাটায়। শুক্রবার সকালে গঙ্গামতি পয়েন্টে গিয়ে সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখেছেন। বিকালে সূর্যাস্ত দেখে শনিবার সকালে ফিরে যাবার শিডিউল তার। কিন্তু সূর্যাস্ত দেখতে না পাওয়ার আপেক্ষ অন্যদের মতো তারও। তিনি বলেন, ‘সূর্যাস্তের দৃশ্য না দেখেই ফিরে যেতে হচ্ছে। যদি বেচে থাকি সময় পেলে আবার আসবো।’

সারাদিন প্রচ- রোদ। ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ট পর্যটকরা একটু প্রশান্তি পেতে সমুদ্রের ঢেউয়ের সাথে মিতালী করেছেন। নানাভাবে আনন্দ উল্লাস করে দুপুর পার করেছেন। দুপুরের খাবার শেষ করে হোটেল কক্ষে বিশ্রাম নিয়ে আসরের পরপর সৈকতে নেমে পড়েছেন। ছবি- সেলফি তুলে সময় পার করে সূর্যাস্তে নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখার অপেক্ষায় তাকিয়ে ছিলেন পশ্চিমাকাশে। কিন্তু আজকের বিকালটা ছিলো অনেকটা শরতের আকাশের মতো। কয়েক খ- কালো মেঘ ভাসছে আকাশে। সূর্যাস্তের ঠিক ১৫ মিনিট আগে এক খ- মেঘের আড়ালে লুকিয়ে পরে সূর্য। শান্ত সমুদ্রের জলরাশির মধ্যে সূর্য কখন ডুবে গেলো কেউ বলতে পারেনি। তবুও সবাই তাকিয়ে ছিলেন পশ্চিম আকাশে। মসজিদের মাইকে আযানের ধ্বনি শুনে আক্ষেপ নিয়ে দর্শনার্থীরা ঘুরে দাড়ালো। তখন পূর্বাকাশে লাল আভায় উদিত হয় পূর্ণিমার চন্দ্র। সূর্যাস্ত না দেখে চন্দ্রদয়ের দৃশ্য অবলোকন করলেন পর্যটকরা। অনেকটা ‘দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর’ মতো অবস্থা।

মাগরিবের নামাজের পর সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্সের সামনে কথা হয় আব্দুল কাউম নামের এক দর্শনার্থীর সাথে। তিনি বলেন, সূর্যাস্ত দেখতে পেলাম না। তবে চাদ ওঠার দৃশ্য দেখলাম। আজ সন্ধ্যায় পূর্বাকাশে চাদ ওঠার দৃশ্য খুবই মনোরম মনে হয়েছে।

কুয়াকাটা ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া জাহিদ বলেন, ‘আজ পশ্চিমাকাশে মেঘ থাকার কারণে আগত পর্যটকরা সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন করতে পারেননি। ’