ইদ্রিস বাহিনীর আতঙ্কে কাঁপছে গৌরনদীর সীমান্ত

গৌরনদী প্রতিনিধি (বরিশাল)॥
বৃষ্টির রাতে স্থানীয় কতিপয় যুবককে ক্ষণিকের জন্য আশ্রয় দিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন এক নারী। আশ্রয় নেওয়া যুবকরা গ্রামের কয়েকজন প্রভাবশালীর সহায়তায় ওই নারীকে তার স্বামীর কাছ থেকে তুলে নিয়ে যায় পাটক্ষেতে। সেখানে প্রায় চারঘন্টা পর্যন্ত ওই নারীকে হেনেস্থা করা হয়। মারধর করা হয় ওই গৃহবধূর স্বামীকে।

উপায়অন্তুর না পেয়ে নিজের স্ত্রীর ইজ্জত রক্ষার জন্য ওইসব ব্যক্তিদের দাবিকৃত টাকা দিতে বাধ্য হন গৃহবধূর স্বামী। নগদ টাকা নিয়েও ক্ষ্যান্ত হয়নি ওইসব ব্যক্তিরা তারা গৃহবধূর ব্যবহৃত স্বর্ণালংকারও ছিনিয়ে নিয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করায় ভুক্তভোগী নারীকে হত্যার হুমকি অব্যাহত রেখেছে অভিযুক্তরা। ঘটনাটি জেলার গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামের।

মঙ্গলবার (২৩ মে) সকালে ওই গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর মেয়ে ও এক সন্তানের জননী ভুক্তভোগী গৃহবধূ শিউলী বেগম (২৮) নিজ বাড়িতে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, সোমবার ঢাকা থেকে আমার স্বামী গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ওইদিনই বৃষ্টির রাতে স্থানীয় ইদ্রিস মাতুব্বরের কয়েকজন সহযোগি ক্ষণিকের জন্য আমার ঘরে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে ওই যুবকরা ইদ্রিস মাতুব্বরকে আমাদের বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে ইদ্রিস ও আশ্রয় নেওয়া যুবকরা আমাদের স্বামী-স্ত্রীর বিবাহের কাগজপত্র দেখতে চায়। একপর্যায়ে ইদ্রিস ও তার সহযোগিরা রাত নয়টার দিকে স্বামীর সামনে থেকে আমাকে তুলে নিয়ে পাশ্ববর্তী পাটক্ষেতে নিয়ে রাত একটা পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে চরমভাবে হেনস্থা করে।

শিউলী বেগম আরও বলেন, একপর্যায়ে নগদ টাকা, বিকাশের টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায় ইদ্রিস ও তার সহযোগিরা। এঘটনার জড়িত ইদ্রিস ও তার সহযোগিদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করায় আমাকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শন করে আসছে অভিযুক্তরা। ফলে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন আমার বাসা থেকে বের হলে আমার ওড়না ছিনিয়ে নেয় ইদ্রিস মাতুব্বর সেই থেকে আমি আর রাস্তা বের হতে পারি না, ইদ্রিসের বিরুদ্ধে গৌরনদী মডেল থানা একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

ওই নারী আরও বলেন ইদ্রিস বাহিনী এলাকায় এতই শক্তিশালী যে তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কেউ রাখেনা, তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললে তাকে মাদক মামলা দিয়ে ফাঁসানো হবে।

অভিযুক্ত ইদ্রিস মাতুব্বর সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, খবর পেয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্যর নির্দেশে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম, তবে কিছু সময়ের মধ্যে আমি আবার চলে এসেছি। পরবর্তীতে ওইখানে কি হয়েছে তা আমার জানা নেই।

গৌরনদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে