চৈতা নেছারিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জালিয়াতি করে অবসরের টাকা উত্তোলন

মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কর্মরত অবস্থায় নিজেকে পদত্যাগ দেখিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ১৯ লক্ষ ৯৩ হাজার ৬০০ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে চৈতা নেছারিয়া সিনিয়ার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ওবায়দুর রহমান বিক্রমপুরীর (৫৫) বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা নুর মোহাম্মদ খান ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মালেক শুক্রবার (০৭ জুলাই) কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ডে অভিযোগ দেন।

অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গোপনে ভুয়া রেজুলেশন ও কাগজপত্র তৈরি করে প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দেখিয়ে তার স্বাক্ষর জাল করে ২০২২ সালের ১ আগস্ট পদত্যাগ দেখিয়ে কল্যাণ ট্রাস্ট এবং অবসর সুবিধা বোর্ডে কাগজ জমা দেন।অন্যদিকে সরকারি কোষাগার থেকে তৎকালীন মাদ্রাসার সভাপতি এডিসি শিক্ষা ও আইসিটর স্বাক্ষর জাল করে আগস্ট ২০২২ থেকে নভেম্বর ২০২২ পর্যন্ত বেতনের টাকাও উত্তোলন করেন।

এছাড়াও ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও চাকরি দেওয়ার নামে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মো. ওবায়দুর রহমান বিক্রমপুরীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ঘটনার সত্যত্যা স্বীকার করে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল মালেক বলেন, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাসের পর মাস মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পেড়েছে। মাদরাসার শিক্ষা কার্যক্রম সচল করার লক্ষে শিক্ষক মন্ডলী ও গভর্নিংবডির সভাপতি আমাকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করেন। ইতোমধ্যে সভাপতি স্বাক্ষর জাল করে বেতন উত্তোলন, মাসের-পর মাস মাদ্রাসায় অনুপস্থিতসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে তিনটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও কোন জবাব পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে আমাদের মামলার প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ রেজাউল কবীর বলেন, গভর্নিংবডির সভাপতি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে এবং উর্ধবতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।