জয়ন্তী নদীতে বিলিন হতে চলছে মুলাদী-ছবিপুর সড়কসহ শতশত ঘরবাড়ি

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী (বরিশাল)।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার ছবিপুর ও বাটামারা ইউনিয়নের হাজার হাজার জনগণ মুলাদী সদরের সাথে যাতায়াতের সড়কটি জয়ন্তী নদীতে বিলিন হতে চলছে। নদীতে বিলীন হতে মাত্র কয়েক হাত বাকি রয়েছে। সড়কটি নদীতে বিলীন হলে মুলাদী সদরের সাথে উত্তরাঞ্চলের ছেলে মেয়েরা মুলাদী সরকারী কলেজ, চরকালেখান আদর্শ কলেজ, চরকালেখান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসার শত শত ছাত্র-ছাত্রী ও হাজার হাজার জনগণ পড়বে চরম ভোগান্তিতে। দুই কিলোমিটার ঘুরে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় অপচয় করে সোনামদ্দীন বন্দর হয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে হবে।

এই রাক্ষসী জয়ন্তী নদীটি প্রায় দুইশত বছর পর্যন্ত মুলাদীবাসীকে দূর্গতি, ধ্বংস ও দারিদ্র্যতার সাথে জড়িয়ে রেখেছে। মুলাদী উপজেলার বহু প্রাচীন ঐতিহ্য, স্থাপনা, বন্দর, হাটবাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই জয়ন্তী নদীতে গ্রাস করে নিয়েছে।

এলাকার প্রবীনদের কাছ থেকে জানা যায় ঐতিহাসিক মীরকুতুবশার দিঘি, বাইশ কাইনী জমির উপর প্রতিষ্ঠিত দেয়াল ঘেরা বোয়ালিয়ার জমিদার গ্যানদা প্রাসাদ সেনের বাড়ি, মসজিদ, মন্দির, মঠ কারিকর পল্লী, কুমার পল্লী দিগন্ত জোড়া ফসলের মাঠ সবেই এই নদীতে বিলীন হয়েছে।
খ্রিস্টপূর্ব পনেরো শতাব্দীতে জেগে ওঠা এই মুলাদীতে (মূলদ্বীপ) কোনো প্রাচীন ঐতিহ্য নেই। নদীতে ভেঙ্গে সবেই চরঅঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এমনও পরিবার রয়েছে যারা জয়ন্তী নদীর এপার ওপার দশ থেকে বারো বার ঘর বেঁধেছে। বাটামারা, সফিপুর ও চরকালেখান ইউনিয়নের হাজার হাজার জনগণ নদী ভাঙ্গনের আতঙ্কে দিন কাটছে।

বেপারীরহাটের বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী ডাঃ এবিএম বজলুর রহমান বলেন, জয়ন্তী নদীর কড়াল গ্রাসে এলাকার শতশত ঘর বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন যদি রোধ না করা যায় তা হলে বিভিন্ন বাজার ও সড়ক নদী গর্ভে চলে যাবে। মানবতার জীবন কাটাবে শতশত পরিবার। সড়কটি রক্ষার জন্য স্থানীয়রা সড়কের পাশে ইট বালুর বোস্তা দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করলেও প্রয়োজন সরকারী সহযোগীতা।

এ সড়কটি রক্ষার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম ভূঁইয়ার কবরের দক্ষিণ পাশ থেকে উত্তর দিকে ছালাম সরদারের বাড়ী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বালুর বস্তা ফেলানোর প্রজেক্ট নেয়া হয়েছে। উত্তর অঞ্চলের লোকজনদের মুলাদী সদরের সাথে সহজে যোগাযোগ ও নদী ভাঙ্গন রোধের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন এলাকাবাসী।