ওরেন্টভুক্ত আসামি ধরতে অর্ধলক্ষ টাকা দাবি, না দেয়ায় বাদীকে হয়রানি

মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ থানার এক উপপরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে যৌতুক মামলার ওরেন্টভুক্ত আসামি ধরতে বাদীর কাছে অর্ধ লক্ষ টাকা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত উপরিদর্শকের (এসআই)নাম আবুল হোসেন।

টাকা না দেওয়ায় উল্টো বাদীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং শ্রীলততাহানি করছেন ওই এসআই। সবশেষ একটি চুরির মামলা নিয়ে ওই বাদীকে আটক করার হুমকি দেন সে।

এ ধরনের হুমকি পেয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী সোমবার (২১ আগস্ট) বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজির কাছে প্রতিকার চেয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০২১ সালের এপ্রিল মাসে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের মানসুরাবাদ গ্রামের মৃত্যুর জিন্নাত আলী জোমাদারের ছেলে শামসুল হক জোমাদারের সাথে পারিবারিকভাবে বিবাহ হয় তার। বিবাহের এক বছর পরে স্বামী তার কাছে ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। স্বীর চাহিদা মতো টাকা না দিতে না পারায় সে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করলে এ ঘটনায় চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা করে সে। মামলাটি আমলে নিয়ে আদালত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেফতারি পরোয়ানা মির্জাগঞ্জ থানায় আসলে থানার এসআই আবুল হোসেন ভুক্তভোগী ওই নারীকে ফোন করে দেখা করতে বলেন। দেখা করলে আসামি গ্রেফতার করার জন্য টাকা দাবি করে। একপর্যায়ে বাড়িতে এসে ভুক্তভোগী ওই নারীকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মায়ের কাছে ৫০,০০০ টাকা দাবি করেন। পরে মামলার তারিখ আসলে আদালতে হাজির হয়ে সংসার করতে রাজি হওয়ার শর্তে তার স্বামীর জামিন হয়। জামিনের পরে তান স্বামী তাকে বাবার বাড়ি থেকে পাঁচজন লোকসহ এসে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর ২৬ জুন রাতে এস আই আবুল হোসেন একটি নোটিশের ফটোকপি নিয়ে এসে ওই নারীর কাছে গিয়ে তালাক হয়েছে বলে স্বামীর ঘর থেকে বের হতে বলেন। এত রাতে বের হতে না চাইলে টেনেহিঁচড়ে জামা কাপড় ছিড়ে মারধর করে ঘরের দরজার সামনে ফেলে রাখে। ঘরের ভিতরে ঢুকে তার মোবাইল ফোন দিয়ে সবকিছুর ভিডিও করে চলে যায়। পরে আমি ওড়না আনার কথা বলে ঘরের ভিতরে গিয়ে বসে পড়ি। এরপরে হুমকি ধামকি দিয়ে সকালের মধ্যে ঘর ছেড়ে যেতে বলে চলেযায়। কিছু দূর যাওয়ার পরে তার মুঠোফোনে কল করে সমাধান করে দেবে বলে আবারও টাকা দাবি করে। এই ঘটনার কিছুদিন পরে আমি আবারো আমার বাবা বাড়ি চলে যায়। এখন আমি সহ আমার পরিবারের বিরুদ্ধে চুরির মামলা হয়েছে বলে জানিয়ে আবারো টাকা দাবি করছেন এসআই আবুল। যদি টাকা দেওয়া না হয় তাহলে আমাদের এরেস্ট করে থানায় নিয়ে যাবে বলে হুমকি দিয়ে গেছেন সে।

ভুক্তভোগী শারমিনের মা বলেন, গত শনিবার আবুল হোসেন বাড়িতে এসে এই বলে হুমকি দেয় যে আপনাদের বিরুদ্ধে চুরির মামলা হয়েছে। যদি টাকা দেওয়া না হয় তাহলে আপনাদের সবাইকে এরেস্ট করে থানায় নিয়ে যাওয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মির্জাগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক(এসআই) আবুল হোসেনর মুঠোফোনে একাধিক বার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে থানায় গিয়ে তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে মির্জাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাফিজুর রহমান বলেন, উক্ত ঘটনা ঘটেছে আমি এই থানায় যোগদানের পূর্বে। তাই এই বিষয়ে আমি অবগত নই। আগে ঘটনাটি জেনে তারপর আমি বক্তব্য দিতে পারবো এবং ঘটনাটি যদি আমার কাছে আসে তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অনুযায়ী অফিসিয়াল ফর্মালিটিজ মেনে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এ বিষয়ে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি জামিল হোসেন মুঠোফোনে বলেন, তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।